আশাশুনিতে লকডাউনে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট জনজীবন

0 ১০৩

আশাশুনি প্রতিবেদক: আশাশুনির পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের চিত্র তুলে ধরে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর লোডশেডিং যেন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বুধবার দিনভর বিদ্যুতের প্রস্থানের ঘটনায় গ্রাহকরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

উপজেলার মানুষ যুগযুগ ধরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছে। বিদ্যুৎ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হাত বদলও দেখেছে তারা। তাদের ব্যবহার, বিদ্যুতের সেবাদান এবং ঝড়-বৃষ্টি, রৌদ্র-শীত, কৃষিক্ষেতে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক কিছুর স্বাক্ষী আজকের গ্রাহকরা। সরকার কোটি কোটি মানুষের নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে, আবার রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুতের উৎপাদনও বাড়িয়েছে। আগে বিদ্যুৎ গ্রাহক কমছিল, বিদ্যুৎ কর্মীও ছিল খুবই সামান্য। বর্তমানে গ্রাহক বেড়েছে, অনেকগুণ কর্মীও বেড়েছে। বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। সেবার মানও অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। কিন্তু মেঘ দেখলে বিদ্যুৎ উধাও, বৃষ্টি হলে বিদ্যুতের প্রস্থান, ঝড় হলে বিদ্যুতের গহীনে পলায়ন এবং ঘন্টার পর ঘন্টা নয় বরং দিনের পর দিন বিদ্যুতের দেখা না পাওয়া। দিনের মধ্যে শত শত বার বিদ্যুতের আনাগোনা, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিদ্যুতের চেহারা দেখিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লুকিয়ে রাখার মত ঘটনা এখন গ্রাহকদের কাছে পরিচিত কাহিনীতে রূপ নিয়েছে। এমন ঘটনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযোগ কেন্দ্রের নম্বরগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো খোলা থাকলেও রিসিভ হয়না। আবার রিসিভ হলেও জবাবটা এমন আসে যে, তাদের কিছ্ইু করার নেই। মেইন লাইনে ফল্ট। কাজ চলছে। অথবা নিয়ম মত লোডশেডিং চলছে। অথবা জাতীয় গ্রিডের সমস্যা। এমন ঘটনার অমন জবাব কিংবা ঘটনা যাই ঘটুক আর জবাব যাই আসুক, ফলাফল তথৈবচ। বরাবরের মত দিবারাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে সামান্য সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। অন্যথায় অপেক্ষার পালা সহ্য করতে হবে।

এতথ্য তুলে ধরে মঙ্গলবার বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে খবর প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশের পর ধারনা ছিল কিছুটা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগ নড়েচড়ে বসবেন। কিন্তু না নড়েচড়ে তো বসেননি, বরং গ্রাহক বিরক্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেখে গ্রাহকদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতিদিনের নেয় নিয়মিত তথা বেশির ভাগ সময় বিদ্যুতের প্রস্থানের ঘটনার অসহনীয় দুর্গতি ভোগের পর রাত্র ৮ টা পর্যন্ত একটানা বিদ্যুতের ঘুমটা টেনে উধাও হওয়ার ঘটনা আশাশুনির মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। প্রত্যক্ষ নয় বরং হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে। এরপর কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য বিদ্যুতের আগমন ও দীর্ঘ সময় প্রস্থানর ঘটনা চলছিল। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (৮.৩০) বিদ্যুতের কোন উন্নতি ঘটেনি।এব্যাপারে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আশাশুনি জোনাল অফিস ও বিভিন্ন অভিযোগ কেন্দ্রে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মেইন লাইনে সমস্যা হয়েছে, আশাশুনি থেকে শ্রমিক পাঠিয়ে কাজ করা হচ্ছে, কাজ শেষ হলেই বিদ্যুৎ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। আশাশুনির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সত্যি চরম বিপত্তির মধ্যে রয়েছে। তারা কোন ব্যাখ্যায় বিশ্বাস রাখতে পারছেনা। তারা বিদ্যুৎ দেখতে চায়। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ চুলচেরা হিসাব করে দেখবেন কি? অবস্থার অবনতি বৃদ্ধি না ঘটিয়ে এর থেকে পরিত্রান চায় আশাশুনির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।