আশাশুনির মিষ্টি দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা সরকারি সহযোগিতা চান

কর্তৃক Ahadur Rahman Jony
০ কমেন্ট 11 ভিউস

সচ্চিদানন্দদে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার প্রসিদ্ধ ময়রা ও সুদক্ষ কারিগররা জীবন-জীবিকার তাগিদে দধি-মিষ্টি তৈরী করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন তারা। দেশের ঐতিহ্যবাহী আশাশুনির তৈরি দধি-মিষ্টি খ্যাতি অর্জন করেছে। ভোজন বিলাসী মানুষের কাছে এ উপজেলার দধি-মিষ্টি ছাড়া রসনা অপূর্ণ থেকে যায়। ঐতিহ্যগত কারণেই ক্রেতা সাধারণের কাছে দধি-মিষ্টি লোভনীয় সামগ্রী। চাহিদার সাথে সাথে কিছু অসাধু ময়রা অধিক মুনাফার লোভে গুণগত মান খারাপ করে থাকে। তারই মধ্যে সুনামকে ধরে রাখতে মুনাফার কথা চিন্তা না করে ঐতিহ্যগতভাবে দধি-মিষ্টি তৈরী করে আসছে অনেক ব্যবসায়ী। বর্তমানে ভাল জিনিস তৈরি করা খুবই কষ্টকর। এসব কথা জানান দীর্ঘদিন যাবৎ দধি-মিষ্টি তৈরির পেশায় নিয়োজিত আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারের সততা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক কার্ত্তিক চন্দ্র ঘোষ।আশাশুনির ঐতিহ্যবাহী দধি, মিষ্টি ও ঘি’য়ের সুনাম এর সমান কদর রয়েছে। বহুকাল আগে থেকে দধি,মিষ্টি, ঘি’য়ের জন্য এ এলাকা বিখ্যাত। সারাদেশে আশাশুনির দধি, মিষ্টি, ঘি’য়ের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিবাহ অনুষ্ঠান, বৌভাত, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দধি-মিষ্টির জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ১৫ প্রকারের মিষ্টিজাত দ্রব্য তৈরী করা হয়। বর্তমানে ১৫ প্রকারের মিষ্টান্ন দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে দধি, চমচম, কালোজাম, শুকনো মিষ্টি, বড় রসগোল্লা, রসমালাই, ছানার সন্দেশ, ক্ষিরপুরী, মেওয়া, ছানার জিলাপী উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সোনাকম্পিউটার এন্ড ডিজিটাল স্টুডিও এর মালিক গৌতম ব্যানার্জী বলেন, আশাশুনির মিষ্টি অন্যতম ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এখানকার লোকজন অতিথিদের খাঁটি ও নির্ভেজাল এ মিষ্টি খাওয়াতে পারলে খুশি হন। শুধু তাই নয়, অতিথিকে বিদায়ের সময় এক প্যাকেট মিষ্টি তুলে দেন অনেকে।নিউ ঘোষ ডেয়ারির মালিক সুজন ঘোষ জানান, ঐতিহ্যবাহী এ মিষ্টির সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে মিষ্টির স্বাদ বা গুণগত মান পরিবর্তন হতে পারে এমন কোনো উপকরণ মেশান না তারা। চার দিকে যখন ভেজালের ছড়াছড়ি ঠিক সেই সময়ে এসেও কোনো ধরনের ভেজালের ছোঁয়া লাগতে দেননি বলেও জানান তিনি। কারিগর শিমুল ঘোষ জানান,‘গরুর খাঁটি দুধ থেকে ছানা কেটে তৈরি করা হয় মিষ্টি। প্রতিদিন সকালে স্থানীয় গোয়ালীদের কাছ থেকে কাঁচা দুধ ক্রয় করেন। সেই দুধ জাল দিয়ে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ছানা। বিশুদ্ধ ছানার সাথে পরিমাণ মতো চিনিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের সমন্বয়ে মিষ্টির বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। আগেই তৈরি করে রাখা ছানার মিশ্রণকে নির্দিষ্ট সাইজ অনুযায়ী গোলাকার আকৃতি করা হয়। এরপর গোলাকার ছানার টুকরোগুলো চিনির তৈরি সিরায় জ্বাল দেয়া হয়। মিষ্টি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি কারিগরের নিজস্ব দক্ষতার বলে সম্পন্ন করেন।মিষ্টি দোকানের মালিক বিশ্বজিত বিশ্বাস জানান, সরকারী বা বেসরকারীভাবে কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না দধি-মিষ্টি প্রস্তুতকারীরা। চড়াদামে বাজার থেকে দুধ ক্রয় করতে হচ্ছে। তাছাড়া ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাকড়ি ক্রয়, কর্মচারীদের বেতন, মাটির ভাঁড়সহ বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয় করে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের এ ব্যবসায় এখন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আশাশুনির ঐতিহ্যবাহী দধি, মিষ্টি, ঘি’য়ের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ বিতরণ, দুধের পাইকারি বাজার ও ডেইরী ফার্ম স্থাপন এখন জরুরী হয়ে পরেছে। এজন্য তারা সরকারের উর্ধতন মহলের পদক্ষেপ কামনা করছেন।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!