করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে চাকরি হারাতে পারে ২২ লাখ মানুষ

0 ১০০

দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। দেশে টানা চার দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী দৈনিক শনাক্ত হচ্ছে দুই হাজারের বেশি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন মহাসংকটজনক পরিস্থিতিতে সম্মুখীন হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পুঁজি হারানো ও বিরাট সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারানো শংকা রয়েছে, যা ২২ লক্ষ হবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ‘প্রাক বাজেট পর্যালোচনা: কোভিড-১৯ সমন্বিত সামাজিক উন্নয়নমূলক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ সম্পর্কিত ওয়েবেনারে এসব বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্কুল অব বিজনেসের বর্তমান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এসব বিষয় তুলে ধরেন।

প্রাক বাজেট পর্যালোচনা সম্পর্কিত ওয়েবেনারটি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের ঢাকাস্থ লিয়াজোঁ অফিসে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয়। ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর, এমিনেন্স এসোসিয়েট ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ ও ডিজিটাল হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজন করা হয়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বর্তমান বাজেটে যে বিষয়গুলো মনোযোগ দিতে হবে, তার মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

ওয়েবেনারে বক্তারা বাংলাদেশে অতীতের বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করে আগামী বাজেটে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, বাজেট হলো পরিকল্পনার সংখ্যাতাত্ত্বিক প্রকাশ। যার মধ্য দিয়ে সরকার ও দলের স্বপ্ন, দর্শন, ও কল্যাণকর চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আসন্ন বাজেটে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য তিনি বলেন, আয় বৈষম্য কমিয়ে সুষম বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দারিদ্র্য শূন্য করার পথে এগিয়ে যাওয়া, সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ যাতে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করা, পুঁজি হারানো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বল্প বা বিনা সুদে জামানত ছাড়া ঋণ দেয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া ১ হাজার ১২৬টি কারখানা চালু করার জন্য প্রণোদনা দেয়া, প্রবাস ফেরত ১৪ লাখের মতো প্রবাসী শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো, কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণ, জমির ব্যবহার ও আওতা বাড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে বাজেটে প্রতিফলন হলে বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মুহম্মদ হুমায়ুন কবির স্বাস্থ্য অর্থনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিন নারীর ক্ষমতায়ন ও ডিজিটাল হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল হামিদ, (এল পি আর) ডিজিটাল হেলথকেয়ারের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেন।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, কলেজ অব বিজনেস এডমেনিস্ট্রেশন-এর এসোসিয়েট প্রফেসর ডক্টর তানভীর আবিরের উপস্থাপনায় ওয়েবেনারে আরও বক্তব্য রাখেন ড. আবুল হাসনাত মিল্টন, প্রফেসর তাসবিরুল ইসলাম, ড.সাবের আহমেদ চৌধুরী, শামীম তালুকদার,মধুসূধন মণ্ডল, এ আর. ফররুখ আহমাদ, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিন হেলালী, আহমেদ খান, দেওয়ান মুহাম্মদ নূর, রোমানা পাপড়ি, মো. হাবিবুর রহমান, সাকিনা আক্তার সীমা প্রমুখ। সূত্র: বিডি প্রতিদিন