কুলিয়া লাবণ্যবতী নদীর কাঠের ব্রিজটি পাঁকা করার দাবী

0 ২১৬

লিটন ঘোষ বাপি: ভারত-বাংলাদেশকে বিভক্ত করেছে সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী। আর ইছামতি নদীর একটি শাখা নদী লাবণ্যবতী। প্রবাহমান এই ছোট নদী যেটা সাতক্ষীরা সদর এবং দেবহাটা উপজেলাকে বিভক্ত করেছে। আর সাতক্ষীরা শহর হতে এর দুরত্ব ১২ কিলোমিটার। দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া নামক এলাকায় সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের নিজ দিয়ে একটি মাত্র পাকা ব্রিজ/ কার্লভাট রয়েছে যার উপর দিয়ে হাজার হাজার যানবহন চলাচল করে প্রতিদিন।

তার পাশেই হাফ কিঃ মিঃ পশ্চিমে শ্রীরামপুর বাজারের সাথেই কাঠ ও লোহা মিশ্রিত তৈরি একটি ব্রিজ রয়েছে। যেখান দিয়ে প্রতিদিন শতশত ছাত্র-ছাত্রীসহ নানা বয়সের লোকজন এপার ওপার আসা যাওয়া করে। অতি প্রয়োজনীয় এই ব্রিজটি কোন রকমে নড়বড়ে অবস্থায় টিকে রয়েছে। যেকোন সময় এই ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে এলাকাবাসী জানান।

শ্রীরামপুর বাজারে চায়ের দোকানে বসে থাকা স্থানীয় কয়েকজন প্রবীন ব্যক্তি ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বহুবছর ধরে দেখছি এই লাবন্যবতী নদীর উপর কাঠ আর লোহার তৈরি ব্রীজ কিন্তু আজও এর কোন পরিবর্তন দেখলাম না। বর্তমানে এই ব্রিজের অবস্থা এমন হয়েছে যে কোন সময় এটি ভেঙ্গে পড়তে পারে। তারা বলেন আমাদের একটাই দাবি আমরা আধাকাচা আধাপাকা এই ব্রীজের পরিবর্তন চাই। আমরা এখানে পাকা ব্রিজ চাই। তা না হলে অনেক কষ্ট করে আমাদের সকলকে প্রায় ১ কিঃ মিঃ ঘুরে কুলিয়া হয়ে বাজারে আসা-যাওয়া করতে হয়। তারা বলেন, এই বাজারের পাশেই শ্রীরামপুর ইউনাইটেড মডেল নামে একটি কলেজ রয়েছে এবং ওপারে কুলিয়ায় রয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যার ফলে এপার এবং ওপারের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীরা পড়া-লেখা করতে আশা-যাওয়া করেত হয় প্রতিদিন। কিন্তু কাঠের এই ব ব্রিজটি ভাঙ্গা চোরা ও নড়বড়ে হওয়ায় নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল বয়সের লোকজন।

এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে বলেন স্থানীয় আ.লীগ ও বিএনপি নেতাদের গড়িমশি ও গাফিলতির কারনে এই ব্রিজের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। তারা বলেন এলাকার আ.লীগ-বিএনপি রেশারেশির ফলে আমাদের এলাকা উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। কেউ বলেন এটা দেবহাটা উপজেলা করবে, কেউ বলেন এটা সদর উপজেলা করবে এর থেকে আমরা মুক্তি চাই। অনতিবিলম্বে এখানে একটা পাকা ব্রিজ তৈরি হলে এলাকার সকল বয়সের বাসিন্দারা সহজেই পারপার হতে পারতো এবং এর সুফল বোগ করতে পারতো। তারা বলেন বর্তমানে যে ব্রিজটি রয়েছে তার উপর দিয়ে কেউ হেটে ছাড়া সাইকেল-মোটরসাইকেল বা ভ্যান গাড়ী নিয়ে আসতে পারে না, চলাচলে তাদের খুবই সমস্যায় পড়তে হয়।

সাবেক এক ইউপি সদস্য বলেন, এই নদীতে আগে লঞ্চ চলাচল করতো। একটা পারাপারের ঘাটও ছিলো নৌকায় করে আমরা পার হতাম। পাকিস্থান আমলে এখানে একটি ষ্টীল ব্রিজ ছিলো যেটা ভেঙ্গে নিয়ে আশাশুনির কোন একটি খালে লাগিয়েছে। আমরা এলাকার অবহেলিত বাসিন্দা যারা ছোট এই ব্রিজটি পাকা দেখতে পারলামনা। কাঠের ব্রিজ হবার পর আমাদের তেমন কোন উপকার আসেনি। কারন এই ব্রিজের অধিকাংশ কাঠ ও লোহা জং ধরে মরিচা পড়ে খসে পড়ে নড়বড়ে অবস্থায় পরিনত হয়েছে। যার ফলে বৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ সকল লোকজনের চলাচল করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া এই ব্রীজ দিয়ে পার হতে যেয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা নিচে পড়ে মারাত্মক আহত হয়েছে। ভাঙ্গা এই কাঠের ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারন লোকজন হাট বাজারে আসে যায়। এছাড়া স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই আতংকে চলাচল করে। কখন জানি ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে।

গতকাল এই নড়বড়ে ব্রিজটি দেখতে যান সাতক্ষীরা জেলা মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও দেবহাটা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জি.এম স্পর্শ, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল হক, ইউপি সদস্য প্রেম দাস প্রমুখ।

নড়বড়ে এই ব্রীজটি অতিসত্ত্বর পাকা ব্রিজে পরিনত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এলাকাবাসী।