ডাকাত সর্দার জাকির পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত : জনমনে স্বস্তি

0 ৯০০

সাতনদী ডেস্ক: পুলিশের এনকাউন্টারে ডাকাত সর্দার জাকির হোসেন নিহতের ঘটনায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি জেলার শীর্ষ ডাকাত বাহিনীর উইকেট পতনের মধ্য দিয়ে জেলা পুলিশ প্রভাবমুক্ত অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা, দামারপোতা, বাগডাঙ্গা, বয়ারবাতান, খড়িয়াডাংগা, দৌলতপুর, কাশিনাথপুর ও তালার দলুয়া অঞ্চল ডাকাত বাহিনীর পদভারে প্রায়ই প্রকম্পিত হয়ে উঠে। কোনো পরম পরায় ডাকাতি, খুন, চাঁদাবাজি ও রাহাজানিতে জড়িয়ে আছে এ অঞ্চলের অন্তত ৩০ জন পেশাদার অপরাধী। এসব অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে বর্তমান শাসকদলের কতিপয় নেতা।
এসব দাগী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশী এ্যাকশন হলেও চিহ্নিত শাসক দলের নেতারা পুলিশকে একহাত দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। বদলি সহ চাকুরী খেয়ে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়। পুলিশও বাহিনীর কতিপয় দূর্বল মানষিকতার কর্মকর্তার কারনে দীর্ঘ এক দশক ধরে এই ডাকাত বাহিনী অনেকটা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল। জাকির হোসেন এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন অনেকটা প্রভাবমুক্ত অবস্থানের বিষয় জানান দিলো।
পৃষ্টপোষকতা প্রদানকারী চক্রটিও কিছু ধীরে চলো অবস্থান নিয়েছে।
এনকাউন্টারে নিহত জাকির হোসেন এর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে সদর উপজেলার দামারপোতা গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতির নিচ্ছিলো এক দল ডাকাত। খবরটি জানতে পেরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ পুলিশ সুপার মির্জা সালাহউদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি জানতে পেরে ডাকাত দল ফায়ার ফায়ার ওপেন করা পাল্টা গুলি চালালে এনকাউন্টারে পড়ে জাকির হোসেন নিহত হয়।
পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
তিনি এও জানান যে, আওয়ামী লীগ নেতা আবু আহম্মেদ এর আপন মামাতো ভাই নিহত জাকির হোসেন ওরফে রাঙ্গা।
মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের নিহত জাকির হোসেন ডাকাত কাশেম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড।
জাকির হোসেন ডাকাতি, খুন মামলাসহ ১৩ মামলার আসামী ছিল। ডাকাত বাহিনী প্রধান আবুল কাশেম নিহত জাকির হোসেনের বড় ভাই। জাকির হোসেনের অপর এক ভাই আব্দুল কাদেরও এ বাহিনীর সদস্য।
একই গ্রামের হবিবর রহমানের পুত্র কামরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলামের পুত্র সাদ্দাম হোসেন, মৃত নবাত বিশ্বাসের পুত্র আবুল কালাম ও ফারুক হোসেন, সাজ্জাত সরদারের পুত্র ইব্রাহিম সরদার (ডুমুরিয়ায় র‌্যাবের এনকাউন্টারে নিহত), মৃত আবুল হোসেনের পুত্র বিপ্লব, হবিবর রহমানের পুত্র সেলিম হোসেন, মাজেদ আলীর পুত্র মোক্তার হোসেন, জব্বার বিশ্বাসের পুত্র ইদ্রিস আলী ও নিহত জাকির হোসেন বাহিনীর চিহ্নিত ডাকাত।
এসব দাগী অপরাধীরা এক দশক ধরে তাদের সম্রাজ্য অটুট রেখেছিল এক অশুভ শক্তির জোরে।
এই অশুভ শক্তির প্রশ্রয়ে একটি চক্র অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকে।
সম্প্রতি কুল্যা ইউনিয়নের দস্যুতা সহ বহু মামলার আসামী দুই অবৈধ অস্ত্রের মালিক রবিকে পুলিশ আটক করলেও অশুভ শক্তির সহায়তা নিয়ে সে মুক্ত হয়। ছাড়া পেয়ে অস্ত্রধারী ফলাও করে বলেছে “পুলিশ আমার…………..পারবে না”।
এদিকে, জাকির হোসেন নিহত হওয়ার পর পরই ছড়িয়ে পড়ে সে আওয়ামী লীগ নেতা আবু আহম্মেদ এর আপন মামাতো ভাই।
এ বিষয়ে আবু আহম্মেদ সাতনদীকে জানান, নিহত জাকির দু-সম্পর্কের ও বৈমাত্রেয় ভাই।
পুলিশের বিশেষ শাখার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিহত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি ডাকাতি, ১টি খুন সহ ডাকাতি, ৩টি হত্যা, ৪টি চাঁদাবাজী সহ ১৩ টি মামলা আছে।
এনকাউন্টারের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১টি পিস্তল ২ রাউন্ড গুলি, ২টি ছোরা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করে।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে পাঠানো প্রেস রিলিজ :
সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সদর থানাধীন দামারপোতা গ্রামস্থ গণঘেরের সামনে ওয়াপদা রাস্তার উপর একদল সন্ত্রাসী ডাকাত ডাকাতি অথবা বড় কোন অপরাধ সংগঠনের জন্য সমবেত হয়েছে। সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশের একটি টিম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ দল ০২/০১/২০২০ খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ০৩/০১/২০২০ খ্রিঃ তারিখ রাত্র অনুমান ০১.৩০ ঘটিকার সময় উক্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ শুরু করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলির মুখে সন্ত্রাসীরা অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালায়। তল্লাশীকালে পুলিশঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের লাশউদ্ধারকরে। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে গুলিবিদ্ধ নিহত যুবককে সন্ত্রাসী ও আন্তঃ জেলা ডাকাত জাকির হোসেন (৩৫), পিতা-মৃত কেরামত গাজী, সাং-মাটিয়াডাঙ্গা, থানা ও জেলা-সাতক্ষীরা বলে সনাক্ত করে। মৃত জাকির হোসেন এর বিরুদ্ধে ০১টি ডাকাতি, ০১টি খুনসহ ডাকাতি, ০৩টি হত্যা, ০৪টি চাঁদাবাজি মামলাসহ মোট ১৩টি মামলা আছে। সে একজন পেশাদার খুনী ও আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সক্রীয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে যশোর, খুলনা এবং সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় আরো মামলা আছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে ০১টি দেশী পিস্তল, ০২ রাউন্ড তাজা গুলি ও ০২টি বড় ছোরা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করে। ঘটনার সময় ০৩ (তিন) জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।