তরমুজ খেয়ে অসুস্থ হচ্ছেন অনেকেই

0 ১০০

সাতনদী অনলাইন ডেস্ক: গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। সুস্বাদু এ ফলটি গরমে মানুষের যেমন তৃষ্ণা মেটায় তেমনি আনে স্বস্তি। শহরবাসী অথবা গ্রামের মানুষ সবাই কমবেশি তরমুজ খেতে পছন্দ করেন। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি। তরমুজে শতকরা ৬ ভাগ চিনি এবং ৯২ ভাগ পানিসহ অন্যান্য ভিটামিন জাতীয় উপকরণ রয়েছে। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, বি৬, সি, পটাশিয়াম, লাইকোপেন ও সিট্রুলিনের মতো উপাদান।

যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য তরমুজ আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলটির পুষ্টিগুণ যেমন তেমনি দেশি ফলের ভেতরে দামও তুলনামূলক কম থাকায় গরমে স্বস্তি পেতে তরমুজের জুড়ি নেই। কিন্তু এর মতো সহজলভ্য, সুস্বাদু ও জনপ্রিয় এ ফলটিতেও এখন দেদারসে মেশানো হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক উপাদান। এমনকি ওজন বাড়াতে পুশ করা হচ্ছে দূষিত পানি। ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ও দূষিত পানি মেশানো এসব তরমুজ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।

সারাদেশে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অসুস্থ হওয়ার বেশ কিছু খবর এসেছে সম্প্রতি।

বাজার ঘুরে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ভয়াবহ তথ্য। তরমুজের নামে আমরা খাচ্ছি ফরমালিন, স্যাকারিন, দুষিত পানিসহ নানান ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল। তরমুজে এসব কেমিক্যাল মেশাতে ব্যবসায়ীরা আশ্রয় নিচ্ছে নানা ধরনের কৌশল। তরমুজকে পাকা এবং লাল দেখানোর জন্য মেশানো হচ্ছে বিপজ্জনক লাল রঙ ও মিষ্টি স্যাকারিন। ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে তরমুজের বোঁটা দিয়ে এসব দ্রব্য পুশ করে তরমুজ পাকা ও লাল টকটকে বলে বিক্রি করা হচ্ছে।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তা সানি সানোয়ার ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, তরমুজ খেয়ে তার পরিবারের ৪ জন অসুস্থ হয়েছেন।

ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘তরমুজ খেয়ে আমার পরিবারের ৪ জন অসুস্থ হয়েছিল। বিষয়টি বেশ কয়েকজনের সাথে শেয়ার করলাম। দেখলাম সবাই একই অভিজ্ঞতার কথা বলল।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আমার পরিবারে আপাতত তরমুজ খাওয়া বন্ধ। দোষীদের ধরতে জনস্বার্থে কাজ চলছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমন আরও অনেকেই তরমুজ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের নয় জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে আটজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তরমুজ কিনে বাড়ি যান আদু মিয়া নামে এক ব্যক্তি। পরিবারের সদস্যরা সেই তরমুজ খেয়ে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল মালেক খান গণমাধ্যমকে জানান, তরমুজ খেয়ে অসুস্থ ব্যক্তিরা আশঙ্কামুক্ত নন। ওই তরমুজে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়ে থাকতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামীম আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনেকেই তরমুজ কেনার সময় খানিকটা অংশ কেটে পরখ করে নেন, তরমুজটি লাল কি না, তাও দেখে নেন। তবে একদম টকটকে লাল তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করার মাধ্যমে তরমুজের রং লাল করা হয়। তাই কেনার সময় স্বাভাবিক রঙের তরমুজ কিনুন।

এছাড়াও বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে তরমুজ বিক্রি হত ‘পিস’ হিসেবে কিন্তু এখন তা বিক্রি হয় কেজিতে। তাই কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী তরমুজের বোঁটা দিয়ে সিরিঞ্জের সাহায্যে পানি ঢুকিয়ে ওজন বাড়ায়। ওজন বাড়াতে তারা যে পানি তরমুজে পুশ করছে তাও আবার দূষিত ও নোংরা পানি। এসব খেয়ে ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথাসহ নানান ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

অসাধু ব্যবসায়ীদের এসব কর্মকাণ্ডের লাগাম টানতে বাজার মনিটরিং এবং এতে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি সাধারণ মানুষের। এছাড়া মনিটরিং সেল গঠনের পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সচেতন হওয়া এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।