দুর্গাপূজা শুরু ২১ অক্টোবর : এবার শুধু মাতৃ বন্দনা, নেয়া যাবে ভার্চুয়াল অঞ্জলি

0 ৭৯

অনলাইন ডেস্ক :

নিউ নরমাল লাইফ বা নতুন স্বাভাবিক জীবনে ভিন্নভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে ২১ অক্টোবর। এদিন দেবীর বোধন। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবারের পূজা হচ্ছে সীমিত আকারে। শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে আয়োজন।

মহামারি বিবেচনায় এবার হবে শুধু মাতৃ বন্দনা, এমনকি নেয়া যাবে ভার্চুয়াল অঞ্জলি।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জনস্বাস্থ্য-১ অধিশাখার উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমদ ওসমানী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গাইডলাইন মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

নির্দেশনায় মন্দির প্রাঙ্গণে নারী-পুরুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পৃথক ও নির্দিষ্ট থাকার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও পূজামণ্ডপে আসা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট দূরত্ব (কমপক্ষে দুই হাত) বজায় রেখে লাইন ধরে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করবেন এবং প্রণাম শেষে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সম্ভব হলে পুরো পথ পরিক্রমা গোল চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট করে দেয়ার কথাও নির্দেশনায় বলা হয় ।

পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং ভক্তের সংখ্যা অধিক হলে একাধিকবার পুষ্পাঞ্জলির ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করে নির্দেশনায় আরো বলা হয়, পূজামণ্ডপে আসা সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। মাস্ক না পরে আসলে কাউকে পূজামণ্ডপে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। এছাড়াও মন্দিরের প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, সর্দি-জ্বর-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ যেন পূজামণ্ডপে না প্রবেশ করে। একইসঙ্গে হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু, রুমাল বা কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকতে হবে। ব্যবহৃত টিস্যু বর্জ্য ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ঢাকনাযুক্ত বিনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। জরুরিভাবে তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা/ধুনচি নাচ এবং শোভাযাত্রা থেকে বিরত থাকার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ আছে। ধর্মীয় উপাচার ছাড়া অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোকসজ্জা বর্জন করতেও বলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, ঢাকা মহানগরে এবছর ২৩২টি পূজামণ্ডপ হবে। এবার পূজায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করতে বলা হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারো নামাজের সময় বাজনা বন্ধ থাকবে। ভক্তরা সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পূজা করবেন। এবার অনেক বয়স্ক ব‌্যক্তি ও শিশু ইচ্ছা থাকলেও পূজায় আসতে পারবে না। তাদের জন্য ভার্চুয়ালি অঞ্জলি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া অনুষ্ঠিত হয়। পুরাণ মতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়ার ৬ দিন পর পূজা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

আশ্বিন মাস মল (মলিন) মাস হওয়ার কারণে এবার দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে একমাস পর অর্থাৎ আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার থেকে।

পঞ্জিকা মতে, ২০২০ সালে দেবী দুর্গার আগমন হচ্ছে দোলায়। দোলায় চড়ে বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে স্বামীর ঘর থেকে রওনা দেবেন তিনি।