দেশব্যাপি শিক্ষক নির্যাতন প্রতিরোধের দাবিতে সাতক্ষীরায় প্রতিবাদ সমাবেশ

কর্তৃক Daily Satnadee
০ কমেন্ট 5 ভিউস

রুবেল হোসেন: নড়াইলের মীর্জাপুর কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতোর মালা পরানো ও আশুলিয়ার শিক্ষক উৎপল সরকারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর বাড়িতে হামলা সহ দেশব্যাপি শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে শনিবার সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসুচিতে সভাপতিত্ব করেন ’৭১ এর বধ্যভূমি স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এড. ফাহিমুল হক কিসলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মোস্তফা নুরুল আলম, বাজাসদ নেতা প্রভাসক ইদ্রিস আলী, জেলা বাসদ সমন্বয়ক শিক্ষক নিত্যানন্দ সরকার, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যাণার্জী, প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ আহম্মেদ বাপ্পি, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি বিশ্বনাথ ঘোষ, ল’ স্টুডেন্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহরিয়ার অপু, জয়মহাপ্রভু সেবক সংঘের সভাপতি গোষ্ট বিহারী মন্ডল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল, জেলা সিপিবির সভাপতি কমরেড আবুল হোসেন, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক, অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন, অধ্যাপক আনিসুর রহিম. এড. এস এম ইকবাল লোদী, জেএসডি নেতা সুধাংশু শেখর সরকার, নিত্যানন্দ আমিন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুনসুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সাত্তার, সাতক্ষীরা ল’ কলেজের প্রভাষক এড. মুনিরউদ্দিন, জেলা জাসদের সহ সম্পাদক কবি রুবেল , জেলা গণফোরাম সভাপতি আলী নুর খান বাবুল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড এবং তা নির্ভর করে শিক্ষকদের অবদান ও সুশিক্ষার উপর। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে একশ্রেণীর উগ্র মানুষের দ্বারা শিক্ষকরা ভিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ঘটনা পরস্পরে দেখা যায়, এসবের পিছনে ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্ণিতি, নিয়োগ বনিজ্য সহ বিভিন্ন ঘটনার যোগসাজস রয়েছে।

সেক্ষেত্রে ধর্ম অবমাননা বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে, যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি¦ এবং মুক্ত চিন্তার মানুষ। দিন দিন লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে তালেবানি রাষ্ট্রের দিকে নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, নারায়নগঞ্জের শ্যামল কান্তি ভদ্র একজন স্কুল শিক্ষক, যাকে কান ধরে উঠাবসা করানো হয়েছে সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশে। ঢাকার ফার্ম গেটের লতা সমাদ্দার কলেজ শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার, মুন্সিগঞ্জের শিক্ষক হৃদয় মন্ডল নওয়গাঁর সহকারি প্রধান শিক্ষক আমোদিনি পাল, চট্টগ্রামের শিক্ষক সঞ্জয় সরকার ও উমেশ রায়কে এবং মিল্টন তালুকদারকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। নড়াইল জেলা সদরের মীর্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্ব্সাকে পুলিশের উপস্তিতিতে জুতার মালা পরানো হয়েছে।

আশুলিয়ার স্কুল এন্ড কেেলেজর শিক্ষক উৎপল সরকারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হাজী ইউনুস আলী কলেজের একজন প্রভাষক। সাম্প্রদায়িকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এমেরিটাস অধ্যাপক ও পদার্থ বিজ্ঞানী অরুন কুমার বসাক।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এর থেকেও ভয়ানক। শুধু হিন্দু জনগোষ্ঠীই নয়, যারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চাচ্ছে, অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ চাচ্ছে, যারা বিজ্ঞানমনস্কতার কথা বলছে, মুক্তবুদ্ধির চর্চার কথা বলছে তারা সবাই এদেশে নানাভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে, এমনকি খুনও হচ্ছে। ড. রতন সিদ্দিকীর বাড়ীতে নগ্নভাবে হামলা করা হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছেন সাতক্ষীরার চঞ্চলা রানী, দেবাশিষ মন্ডল।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত।

তালার নগরঘাটার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ললিত মোহন সাহার সন্তানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যহত রয়েছে। এসব থেকে নিজেকে রক্ষা করে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা এদেশে দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে। চিতলমারির কলেজ ছাত্রী রণিতা বালাকে ফেইসবুকে ইসমলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় হামলার ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে শিবপুর গ্রামের জনৈক রুহুল আমিন মুন্সির দায়েরকেৃত নতুন ঘটনার মামলায়।

সম্প্রতি কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহারে হামলা, গত বছর অষ্টমীর দিনে কুমিল্ল¬ায় পুজা মন্ডপে ইকবাল হোসেনের কোরান শরিফ রেখে হিন্দু ধর্ম অবমাননার জেরে ২১ জেলা মন্দির ও হিন্দুদের উপর নির্যাতন হয়েছে। এসকল ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য সকল মুক্তমনা জনগন, সরকার, সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলকে একসাথে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে হবে। কোন প্রকারেই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে সা¤্রদায়িক মৌলবাদিদের বিচরণ ক্ষেত্র হতে দেওয়া যাবে না।

0

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!