নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর খুলনা ত্যাগ

কর্তৃক Abdullah Al Mahfuj
০ কমেন্ট 68 ভিউস

মেহেদী হাসান, খুলনা থেকে: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়কপথে ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার ভৈরব নদীর কোলঘেঁষা দিঘলিয়ায় মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তি দেখতে আসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন। এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সফর। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবশেষ ২০১৮ সালের ৩ মার্চ খুলনায় এসেছিলেন।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়কপথে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু) পার হয়ে আড়ংঘাটা বাইপাস ধরে দিঘলিয়া ঘাটে পৌঁছান। ঘাট পার হয়ে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে দিঘলিয়ার নগরঘাট এলাকায় মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতি বিজড়িত জমি ও পাট গোডাউন ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন তিনি। এরপর দিঘলিয়া থেকে তিনি মহানগরীর শেরে বাংলা রোডে অবস্থিত চাচা শহীদ শেখ আবু নাসের এর বাড়ীতে আসেন। বঙ্গবন্ধু খুলনায় এসে এই বাড়িতে অবস্থান করতেন। সেখানে দলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। চাচার এই বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে সড়ক পথে খুলনা ত্যাগ করেন।
এ সময় বাড়ীতে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সহোদর শহীদ শেখ আবু নাসের এর বড় পুত্র বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ হেলালের পুত্র বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, শহীদ শেখ আবু নাসের এর মেঝ পুত্র খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনর রশীদ, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, শহীদ শেখ আবু নাসের এর পুত্র শেখ জালাল উদ্দীন রুবেল, শেখ বেলাল উদ্দিন বাবু, শেখ হেলাল এর সহধর্মিণী শেখ রুপা চৌধুরী, সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এর সহধর্মিণী শম্পা ইয়াসমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজিত অধিকারী, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফকির সাইফুল ইসলাম, সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এর দুই পুত্র ফারদিন নাসের, শেখ ফারজান নাসের।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর খুলনায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার সমর্থক দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত ও অভিবাদন জানান। দিঘলিয়ার ওপারেও প্রধানমন্ত্রীকে বরন করতে তোরন, প্যানা সহ রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনায় আগমন উপলক্ষে সাজ সাজ রব রয়েছে খুলনায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাত্রাপথ, দিঘলিয়া ঘাট ও পরিদর্শন স্থল সেজে উঠেছে বাহারি তোরন ও প্যানায়। খানা-খন্দে ভরা রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে দু-দিন আগেই।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মহাসড়কজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ছিল নিশচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রূপসা সেতু থেকে শুরু করে খুলনা শহর বাইপাস, দিঘলিয়া ও শেখপাড়ার চাচার বাড়ি এলাকায় মোতায়েন করা হয় আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৪ হাজার সদস্য। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভৈরব ও রূপসা নদী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ছোট চাচা শেখ আবু নাসেরের বাড়িতে চা খেতে খেতে আমাদের দলের সাংগঠিক বিষয়ে দিক নানা নির্দেশনা দেন। এরপর মাগরিবের নামাজ আদায় করে সন্ধ্যা ৬ টার পর পর তিনি সড়ক পথে খানজাহান আলী সেতু হয়ে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন বলেন, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল। খুলনা সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তান আমলে তার স্ত্রী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার নামে খুলনা জেলার ভৈরব নদীর পাড়ে এক একর ৪০শতাংশ জমি কিনেছিলেন। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্পত্তির মালিক হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় এখানে পাটের গোডাউন ও এক কক্ষ বিশিষ্ট ঘর ছিল, যা তার ছোট ভাই শেখ আবু নাসের দেখাশোনা করতেন। বর্তমানে পুরাতন গুদাম ঘর ভেঙে একটি আধুনিক গুদাম ঘর ও একটি গেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৭ সালে তার ব্যক্তিগত আইনজীবীর মাধ্যমে এ সম্পত্তির বিষয়ে অবগত হন।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!