বড়বাবুদের সু-নজরে রেহাই পাবে আনিসুর

কর্তৃক Ahadur Rahman Jony
০ কমেন্ট 358 ভিউস

হাবিবুর রহমান: জাল নামপত্তন তৈরি করে লক্ষাধিক টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে সহকারি ভূমি কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে। এদিকে জাল নামপত্তন দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলেও শাস্তি না হওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ফলে তালা সদর ইউনিয়নের মানুষ হয়রানি থেকে পরিত্রান পাওয়ার বদলে হয়রানির অন্ধকার গহ্বরে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত মাসের ২২সেপ্টেম্বর তারিখের জনৈক মঞ্জুয়ারা খাতুনের জমি হস্তান্তর করার জন্য রেজিস্ট্রি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজ সহ জমির নামপত্তনের কাগজ জমা দেন। নামপত্তনের কাগজটি দেখে সন্দেহ হয়ায় রেজিষ্ট্রি বন্ধ ঘোষণা করেন সাব-রেজিষ্ট্রার মইনুল হক। পাশাপাশি তিনি উল্লেখিত নামপত্তনের কাগজটি তার দপ্তরস্বারক নম্বর ৪১৪ তারিখ ২৮-৯-২০২২ মোতাবেক সহকারি কমিশনার ভূমি, তালা বরাবর যাচাই বাছাই করার জন্য প্রেরন করেন। এছাড়া ১৩.৫০শতক খাজনা মূল দাখিলাও যাচাই বাছাইয়ের জন্য এসিল্যান্ড অফিসে প্রেরণ করা হয়।
তালা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রুহুল কুদ্দুস সাতনদীকে এ বিষয়ে জানান, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে অফিসিয়াল অভিযোগটি পেয়েছি। যাচাই বাছাই শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অনুসন্ধানে গেছে, সহকারি ভূমি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান দিনে পর দিন এরকম অবৈধ কর্মকান্ড করে আর্থিক ভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তার কাগজপত্র জালিয়াতির ফলে তালায় জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ দিনের পর দিন বাড়ছেই। এখানেই শেষ নয় খাজনা আদায়েও ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে যা পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে।
তবে বিভিন্ন জায়গায় আনিসুর রহমান বলে বেড়াচ্ছেন এসব সংবাদ প্রকাশ করে কোন লাভ নেই, কারণ তার ওপর বড়বাবুদের সু-নজর আছে। ফলে তার এসব জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও কার্যকরী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসের ২২সেপ্টেম্বর তালা উপজেলার হরিচন্দকাটী গ্রামের মৃত খালেক শেখের স্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মঞ্জুয়ারা খাতুন জমি বিক্রির জন্য নামপত্তন করতে সহকারী ভুমি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান এর দারস্থ হন। একপর্যায় জমির নামপত্তনের জন্য নায়েব আনিসুর রহমান উল্লেখিত মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী মঞ্জুয়ারা খাতুন নায়েব আনিসুর রহমান এর চাহিদা অনুযায়ী ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন দালাল আটারইর গফুরের কাছে। ওই টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিজের জন্য রেখে বাকি টাকা নায়েব আনিসুরকে প্রদান করে গফুর। যার স্বীকারোক্তি গফুর দিয়েছে।
১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করে নায়েব আনিসুর রহমান তালা এ,সি,ল্যান্ড অফিসের সহি-সাক্ষর জালিয়াতি করা একটি ভুয়া এবং জাল নামপত্তনের কাগজ হাতে ধরিয়ে দেন বলে দাবি করেন মঞ্জুয়ারা খাতুন।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!