মণিরামপুরের রাজনীতিতে আবারও তৎপর জামায়াত

0 ৩৪

এস এম আতিয়ার রহমান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: ব্যানারের বাইরে থেকে যশোরের মণিরামপুরে রাজনীতিতে তৎপর হচ্ছে জামায়াতে ইসলাম। বিয়ে সাদি, অথবা দাফন-কাফন ও জানাজার অনুষ্ঠান মাধ্যমে একত্রিত হচ্ছেন এ দলের নেতা-কর্মীরা। আসছে মার্চ-২০২১ মাসে সম্ভাব্য ইউপি এবং পৌর নির্বাচনের আগে তারা সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরী করতে বিভিন্ন কৌশলী হয়ে নেতা-কর্মীরা মাঝে মধ্যে একত্রে মিলিত হচ্ছেন।

জানা যায়, হামলা-মামলা এবং পুলিশি নির্যাতনে জামায়াত দলীয় নেতা-কর্মীদের ঘর ছাড়া ভাবে জীবন চলেছে লাগাতার ৮/৯ বছর। বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকেই নিস্ক্রিয় অবস্থানে চলে যায়। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন কৌশলে মাঠ গোছাতে সক্রিয় হচ্ছেন। এ অবস্থার প্রথম পর্যায়ে তারা বিয়ে সাদি অথবা দাফন কাফন অনুষ্ঠানে একত্রিত হচ্ছেন।

আগামী ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক অবস্থান মজবুত করতে কার্যক্রম চলছে তাদের। উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে এমন সব তথ্য মিলে।

সংগঠনের থানা আমীর (সভাপতি) মাওলানা লিয়াকত হোসেন জানান, জামায়াতের সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনে যাবার কোন সিদ্ধান্ত নেই। তবে বিএনপির সাথে জোটগতভাবে থাকতে হলে নিজেদের অবস্থান মজবুত রাখতে হবে। দীর্ঘ ৮/৯ বছর নির্যাতনের শিকার এ দলটির নেতা-কর্মীদের ঘাড়ে এখনো ৩’শ ৯৬টি মামলা ঝুলছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকেই ঘরছাড়া এখনও। জামায়াত দলের যদিও দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম লক্ষনীয় নয়, তারপরও মণিরামপুরে রয়েছে এর ভিন্নতা।

২০১৩ সালে মণিরামপুর জামায়াত তাদের অবস্থান জানান দিতে জনসম্মুখে আসে ভিন্ন সাজে। তারা ব্লাক ড্রেজ, মাথায় হেলমেট, পিঠে ব্যাগ সহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ১৩ সালের ২৪ অক্টোবর হঠাৎ আক্রমন করে পৌর শহর মণিরামপুর বাজার। সে সময়ের আলোচিত যুবলীগ নেতা আদম আলীর বসতবাড়ীর উপর হামলা চলে। দেশব্যাপী জামায়াত আলোচনায় চলে আসে উপজেলার জয়পুর গ্রামের তান্ডব নিয়ে। সে সময়ের উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফজলুল হককে গ্রেফতার করতে ফজরের নামাজের সময় জয়পুর গ্রামে মসজিদ ঘেরাও করে পুলিশ বাহিনী। একপর্যায়ে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায় ঘন্টা ব্যাপী সাধারণ জনতার উপর। এতে কমবেশী অর্ধশতাধিক নিরীহ জনগণ আহত হন। নিহত হন ভাটা শ্রমিক আনিচুর রহমান নামের এক যুবক। ২০১৩ সালের ২২ মার্চে সূর্য্য উদীত হওয়ার আগে মুহ মুহ গুলি বর্ষণের ঘটনা আজও জয়পুর বাসীকে আতংকিত করে।

২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত তাদের দলীয়ভাবে প্রার্থী দেয়। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮১ হাজার ভোট পেয়ে এ্যাড গাজী এনামুল হক পরাজিত হন। এ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সে সময়ের উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ফজলুল হক। জামায়াতের সেই অবস্থানকে আবারও সামনে আনতে চেষ্টা করছেন তারা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশতাধিক পুরুষ এবং নারী সাংগঠনিক কাজে তৎপর আছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে উপজেলা এবং পৌরসভার পুর্ণাঙ্গ তাদের কমিটি রয়েছে এমনটি দাবী করলেও কে কোন পদে তা বলতে চান না তারা। তবে উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ পদ গুলোকে ঘন ঘন পরিবর্তন আনা হয় বলে জানা গেছে। বর্তমান এ দলটির উপজেলার সভাপতি (আমীরের) দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা লিয়াকত আলী এবং সেক্রেটারী মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন। পৌরতে কে কোথায় আছেন এ ব্যাপারে বলতে চান না তারা। শীর্ষ এই নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাংগঠনিক কোন বিষয় মিডিয়ার সঙ্গে বলতে নারাজ তারা।

এ দু’নেতার একজন পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে জানান, আগামী ইউপি নির্বাচনে তাদের অবস্থান জানান দেওয়া হবে। তবে তারা বিএনপির রাজনীতির সাথে রয়েছেন এমনটি দাবী করে বলা হয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেনের সাথে জামায়াতের বৈরী সম্পর্ক বরাবরের। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কোন সম্পর্ক আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে দাবী করা হয় ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক রয়েছে, দলের সাথে নয়। বলা হয় সাবেক সাংসদ খাঁন টিপু সুলতানের সময়কালের চেয়ে বর্তমানে ভাল অবস্থায় আছেন তারা।

উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু বলেন, জামায়াত ধর্ম এবং রাজনীতি এক করতে চায়। সাম্প্রদায়িক এ দলটি যেন ২০১৪ সালের অবস্থানে আর না ফিরতে পারে সে ব্যাপারে উপজেলা যুবলীগ সজাগ রয়েছে। তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড চোখে পড়লে তাৎক্ষনিক প্রতিহত করা হবে। তবে এই হিংসাত্বক রাজনৈতিক চরিত্র কেবল জামায়াতের নয়, বিএনপিরও।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন বলেন, জামায়াত পরিস্থিতির কারণে ঘাপটি মেরে আছে। আসলে তাদের মানুসিকতা এবং চরিত্রের পরিবর্তন আসেনি। তবে এক্ষেত্রে শুধু জামায়াত নয়, বিএনপি’র অবস্থাও একই। ২০১৪ সালের মতো এ দ’ুটি দলের অবস্থা আর কখনো আওয়ামীলীগ করতে দেবে না। ২০১৪ সালের সেই বেগারীতলা, জয়পুরের কথা মানুষ মনে করলে এখনো আঁতকে উঠে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, জামায়াতের রাজনীতি ব্যক্তি শহীদ ইকবাল পছন্দ না করলেও তারা আমাদের জোটের শরিক দল। মণিরামপুরের জন্য তাদেরকে নিয়ে যে পরিমান বলা হয় আসলে তা সঠিক নয়। মিথ্যা মামলা, হামলার শিকার হয়ে তারাও নির্যাতিত। অতএব রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের উপর অনেক ঘটনা মিথ্যা ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়। তাদেরকে নিয়ে যে পরিমান বলা হয় আসলে তা সঠিক নয়। মিথ্যা মামলা, হামলার শিকার হয়ে তারাও নির্যাতিত। অতএব রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের উপর অনেক ঘটনা মিথ্যা ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়।