মা-বাবা দুই বোনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি গেল শিশু মীম

0 ৭৮

সাতনদী অনলাইন ডেস্ক: মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে বালু বোঝাই বাল্কহেড ও স্পিডবোটের সংঘর্ষে বেঁচে ফেরা মীম তার মা-বাবা ও দুই বোনের মরদেহ নিয়ে খুলনার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।

সোমবার (৩ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে তেরখাদা উপজেলা সদরের পারোখালী গ্রামে এসে পৌছায় তারা। এ সময় তাদের দেখতে ছুটে এসেছেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার (৪ মে) সকালে মীমের মা-বাবা ও দুই বোনকে দাফন করা হবে।

হিতরা হলেন, মনির শিকদার তার স্ত্রী হেনা বেগম, কন্যা সুমি আক্তার (৭), রুমি আক্তার (৪) নিহত হন। প্রাণে বেঁচে আছে শুধু তাদের ৯ বছর বয়সী মেয়ে মীম আক্তার।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত মনির শিকদারের বাবা আলম শিকদার মারা গেছেন অনেক আগে। রোববার (২ মে) রাত ৮টায় মা মারা যাওয়ার সংবাদ রাতেই মনিরকে জানানো হয়। সবার সিদ্ধান্ত ছিল সকালে মনির এসে পৌঁছালে মায়ের দাফন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সকাল থেকে মনিরের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তারা আর অপেক্ষা করেননি। সকাল ১০টায় মনির শিকদারের মা লাইলী বেগমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। এর কিছু সময় পরই নৌ-দুর্ঘটনার সংবাদ আসতে থাকে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শিবচরে ছুটে যান।

নিহত মনির শিকদারের ভাই কামরুজ্জামান জানান, রোববার (২ মে) রাতে মা লাইলী বেগম (৯০) মারা যান। মায়ের অসুস্থতার সংবাদ শুনে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ওয়াল্টনের শো-রুম বন্ধ করে দিয়ে বাড়ি ফেরেন কামরুজ্জামান। রোববার রাতে ঢাকা থেকে তেরখাদায় বাড়ির উদ্দেশে তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ফিরছিলেন মনির শিকদার। পদ্মা নদীর শিবচর এলাকায় পৌঁছে মনির শিকদারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার ভাতিজা মিরাজ শিকদারের। সেখানে শেষ কথা হয়েছিল তাদের। মিরাজ তার নানিকে নিয়ে আগের স্পিডবোটে পদ্মা পেরিয়ে তেরখাদায় এসেছিল। পরে জানা গেল-মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় পদ্মা নদীতে একটি বালুভর্তি বাল্কহেডের সঙ্গে যাত্রীবাহী স্পিডবোটের সংঘর্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তেরখাদা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এফএম অহিদুজ্জামান বলেন, মাদারীপুরের শিবচরের ঘটনাস্থল থেকে সোমবার (৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহগুলো তেরখাদায় আনা হয়েছে।