সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান মামুন ও তৈয়ব হাসান জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কারে ভূষিত

0 ৭৬

আহাদুর রহমান জনি: একজন বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জিমনাস্টিক এর সভাপতি বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক শেখ বশির আহমেদ মামুন ও কিংবদন্তি সাবেক ফিফা ও এএফসি এলিট রেফারি তৈয়ব হাসান সামছুজ্জামান জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কারে ভূষিত হচ্ছেন। আগামীকাল ১১ মে বুধবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় খেলোয়াড়, সংগঠকদের অবদানের স্বীকৃতিতে এ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন ক্রীড়া জগতের বহু রথি-মহারথিরা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় দেশের খেলোয়াড়, সংগঠকদের অবদানের স্বীকৃতিতে এ পদক প্রদান করা হয়। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই অসামান্য গৌরবের পুরস্কার গ্রহণ করবেন সাতক্ষীরার এ দুই কৃতি সন্তান।
সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্র সুলতানপুরের বাসিন্দা শেখ বশির আহমেদ মামুন। তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জিমনাস্টিক এর সভাপতি। বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক শেখ বশির আহমেদ মামুন দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কারে ভ‚ষিত হয়েছেন। তার এই সাফল্যে সাতক্ষীরা জেলা আজ গর্বিত।
১৯৭০ সালের ৯ জানুয়ারি সাতক্ষীরা জেলার পলাশপোলে জন্মগ্রহন করেন তৈয়ব হাসান। আর দশজনের মত খেলোয়ার না, রেফারিংয়ের মাধ্যমে দ্যুতি ছড়ানো গুনিজন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান তৈয়ব হাসান। বহু বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে রেফারিং এর মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অবশেষে রাষ্ট্রীয় পদক “জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার” পাচ্ছেন সাতক্ষীরার গর্ব । কিংবদন্তি রেফারি তৈয়ব হাসান বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ১৮ বছর (১৯৯৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিফা রেফারী হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তিনিই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। যার সংখ্যাও ১০০টির ওপরে। তার উল্লেখ যোগ্য ম্যাচের মধ্যে আছে ফিফা বিশ্বকাপ; ফিফা অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্ট, প্রিলিমিনারী রাউন্ড; এএফসি চ্যাম্পিয়ান্স লীগ নক আউট ও গ্রুপ স্টেজ; এশিয়ান গেমস ২বার (২০১০ চায়না, ২০১৪ কোরিয়া); বঙ্গবন্ধু কাপ ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট, বাংলাদেশ (১৯৯৯ ও ২০১৫); এশিয়ান কাপ, কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড; এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ- ফাইনাল রাউন্ড ও গ্রæপ স্টেজ; এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ- ফাইনাল রাউন্ড ও গ্রুপ স্টেজ উল্লেখ যোগ্য।
জেলার এ কৃতি সন্তানের ঝুলিতে আছে দেশের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ইন্টারন্যাশনাল রেফারী অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত (এএফসি রেফারীজ মোমেন্তো অ্যাওয়ার্ড)। এছাড়াও এশিয়ার সেরা ২৫ রেফারীর তালিকায় থাকা তৈয়ব প্রথম সাউথ এশিয়ান রেফারী হিসেবে সাফ চ্যাম্পিয়ানশীপের ফাইনাল ম্যাচে (নেপাল-২০১৩) প্রধান রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন। তার এ্যাওয়ার্ডের মধ্যে আছে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির সেরা রেফারী পুরষ্কার ২০০০৫; বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সেরা রেফারি পুরষ্কার ২০০৫; বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেরা রেফারি পুরষ্কার (জাতীয় লীগ) ২০০৫; বাংলাদেশ ফুটবল রেফারীজ এসোসিয়েশন পুরষ্কার ২০০৭; সোনালী অতীত ক্লাব, ঢাকা, বাংলাদেশ- সেরা রেফারী পুরষ্কার ২০১১; সাজেস এওয়ার্ড ২০১৬; সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও অফিসার্স ক্লাব পুরষ্কার; সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা পুরষ্কার ২০১৭;
খেলাধুলাকে ভালোবাসা এমন বিখ্যাত রেফারি তাঁর সুদীর্ঘ রেফারিং জীবনে প্রথম সাউথ এশিয়ান রেফারী হিসেবে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে যে জার্সিটি পরে তিনি রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন স্মরণীয় সেই “রেফারী জর্সিটি” ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নিলামে বিক্রি করেন। তবে এ অর্থের সম্পূর্নই তিনি করোনা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যার্থে বিলিয়ে দেন। করোনায় পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতিতে এমন মহৎ কাজের জন্য তৈয়ব হাসান দেশ-বিদেশে প্রসংসিত হয়েছেন। অভিনন্দনে চোখের মনি হয়েছেন জেলার মানুষের। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও স্বয়ং তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্র প্রেরণ করেন।রেফারিং-এ অবদানের স্বীকৃতিতে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি, বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, সোনালী অতীত ক্লাব, ঢাকাসহ বিভিন্ন সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইতোপ‚র্বে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়।


error: Content is protected !!