সাতক্ষীরা যুবলীগ নেতা মান্নানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ, প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল

0 ৬৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল গ্রামে সাতক্ষীরা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান ও মধ্যকাটিয়ার মুজিবর পেশকারের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ এনে ঝাড়ু মিছিল করেছে এলাকাবাসী। বুধবার(৩০ জুলাই) রাত ৮টার দিকে বাঁকাল খেয়াঘাটের সামনে উপযুক্ত বিচারের দাবীতে সাতক্ষীরা -কালিগন্জ্ঞ সড়ক অবরোধ করে এ মিছিল প্রদর্শন করেন এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মিছিলে অভিযোগকারীরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে বাঁকাল এলাকার বিভিন্ন লোককে মারপিট ও অংশিদারের জমি জোরপূর্বক দখল করার পায়তারা চালাচ্ছে সাতক্ষীরা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান ও মধ্য কাটিয়ার মুজিবর পেশকার । তারা দ্রুত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে এলাকাবাসীকে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে,মধ্য কাটিয়ার মুজিবুর রহমান, পেশায় একজন পেশকার হওয়ার সুবাদে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে বাঁকাল খেয়াঘাটের স্হায়ীবাসিন্দা সুকুমার বিশ্বাসদের বসবাসকৃত জমি দখলে নেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।তারা আরোও জানান, ৩০ বছর যাবৎ দখলী জমি দেওয়ানী আদালত থেকে পক্ষভুক্ত না করে শুধুমাত্র ডিক্রী করে জমি জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে মুজিবর পেশকার। আর মুজিবরের পক্ষ নেয় আব্দুল মান্নান। এটি নিয়ে ঈদের পরে শান্তিপূর্ন সমাধানের কথা থাকলেও তার কোন তোয়াক্কা না করে বুধবার সন্ধ্যায় অতর্কিত হামলা চালায় মান্নান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এ সময় গ্রামবাসী তা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে মান্নানের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয় নিরান্জন মাখাল ও তার স্ত্রীসহ এলাকার আরোও অনেকে।

অভিযোগকারীরা আরো বলেন, আমরা যেভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছি যদি তার বিচার না হয় তবে আমাদের এলাকায় বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে ঝাড়ু– মিছিল করেছি। উক্ত ঝাড়ু মিছিলে এলাকার নারী-পুরুষ ও শিশু কিশোরসহ সকল শ্রেনীর মানুষ অংশ নেয়। এ সময় তারা মুজিবর পেশকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অন্যায় অবিচারের কথাও তুলে ধরেন। এ সময় ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি আসাদুজ্জান মিয়া তার দেওয়া দোষীদের শাস্তির আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন এলাকাবাসি।

জানতে চাইলে জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এখন আর কোন প্রকার হামলার সঙ্গে থাকেন না। নামাজ কালামের মধ্য দিয়ে দিন কাটান। নিরপেক্ষ হিসেবে কেউ বলে সেখানে থাকেন। হামলার বাকাল খেয়াঘাট এলাকায় হামলার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান হামলা ও ভুঙচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মুজিবরকে পরিতোষের ব্যবহৃত ঘর থেকে স্বপরিবারে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষই ওই ঘরে উঠতে পারবে না। তবে যারা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা মামলা দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।