সাবধান! বাজারে মিলছে চোরাই মোবাইল

0 ৮৮

সাতনদী অনলাইন ডেস্ক: শরীয়তপুরের বাসিন্দা আলী হাসান। ২৪ বছর বয়সী এই যুবক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। হাত খরচের টাকা থেকে জমিয়ে মোতালেব প্লাজা থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি ১৮ হাজার ৯৯০ টাকা দিয়ে অপো এ-৫৩ মডেলের একটি স্মার্টফোন কিনেছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করে তার মোবাইল নম্বরে ফোন দেন ঢাকার মতিঝিল বিভাগের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। আলী হাসানের ক্রয়কৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই ও মডেল নম্বর উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা জানান তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি চোরাই ফোন। তাই ফোনটি ঢাকার গোয়েন্দা কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। না পাঠালে তাকে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এসব কথা শুনে আলী হাসান ভয় পেয়ে যান।
উপায়ান্তর না পেয়ে এবং আইনি জটিলতায় না পড়তে জমানো টাকা দিয়ে কেনা ফোনটি ফেরত দেন ডিবিকে। কিন্তু পরবর্তীতে এই মোবাইল ফেরত পাবেন কি-না এ নিয়ে এই শিক্ষার্থী এখন সংশয়ে আছেন। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোভন টেলিকম নামের একটি মোবাইলের দোকান থেকে ৩৪টি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছিল। চুরি হওয়া মোবাইলগুলো অধিকাংশই এখন সারা দেশে বিভিন্ন জেলার মোবাইলের দোকানে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব সেটের অনেকটি বিক্রি হয়ে গেছে। যারা কিনেছেন তাদের সবাইকেই ফোন ফেরত দেয়াসহ গোয়েন্দা পুলিশের নানা জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অস্ত্র উদ্ধার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ টিম গত ১০ই ফেব্রুয়ারি মগবাজার থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলো- মো. সোহেল (২৮), মো. আনোয়ার হোসেন (২৭) ও মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ (২৬)। তারা তিনজনই সংঘবদ্ধ চোরাই মোবাইল ফোন বিক্রি চক্রের সদস্য। এই চক্রের অন্যতম হোতা হাসমত আলী পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৪১৩ ধারায় রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, চোর চক্রের কাছ থেকে নতুন ১১টি মোবাইল উদ্ধারসহ আসামি গ্রেপ্তার করেছে ডিবি, এমন খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোভন টেলিকমের মালিক একটি জিডির কপি নিয়ে ডিবি অফিসে যোগাযোগ করেন। ডিবির উদ্ধার করা মোবাইলের আইএমইআই’র সঙ্গে তার চুরি হওয়া মোবাইলের আইএমইআই মিলিয়ে সব ক’টি সেটের মিল খোঁজে পান। ওই ব্যবসায়ী তখন ডিবিকে জানান তার দোকানের সাটারের ক্লেম ভেঙে বিভিন্ন মডেলের ৩৪টি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে।
ডিবি তখন জানতে পারে সব ক’টি ফোন শোভন টেলিকম থেকে চুরি করেছে পলাতক হাসমত আলী। ৩৪টি মোবাইলের সব ক’টি সে বিক্রি করে দিয়েছে গ্রেপ্তার সোহেলের কাছে। সোহেল পরবর্তীতে আনোয়ার ও সাইফুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেছে। ৩৪টি ফোনের মধ্যে ১১টি তাদের কাছে ছিল। বাকিগুলো মোতালেব প্লাজার একটি দোকানে বিক্রি করা হয়েছে। মোতালেব প্লাজা থেকে সেগুলো বিভিন্ন খুচরা দোকানের মাধ্যমে চলে গেছে গাজীপুর, শরীয়তপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায়। ছড়িয়ে যাওয়া সব মোবাইল ফোন এখনো ডিবি পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। সেগুলো বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা ব্যবহার করছেন। ডিবি এখন এসব গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চুরি করা মোবাইল ফোন বিক্রি করার জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়ো হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। পরে ওই মোবাইল ফোনগুলোর মালিক আমাদের কাছে আসেন। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি অধিকাংশ মোবাইল ফোনই বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে সেটগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, নতুন মোবাইল কিনেও গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন। কারণ সেগুলো কোথা থেকে আসছে, বৈধ না অবৈধ- গ্রাহক সেটা জানেন না। সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন মোবাইল দোকান থেকে চুরি করে এনে সেগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে অন্য এলাকার দোকানে। তাই মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। মানি রিসিটে কেনার সুনির্দিষ্ট তারিখ, ব্যবসায়ীর স্বাক্ষর, আইএমইআই, সেটের কালার ও মডেলের উল্লেখ থাকতে হবে।