সুন্দরবনের কলাগাছিয়া এলাকায় বন কর্মকর্তাদের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন

0 ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া এলাকায় বন কর্মকর্তাদের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে জেলে বাওয়ালীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন জেলে বাওয়ালীদের পক্ষে শ্যামনগর উপজেলার কলবাড়ি গ্রামের নজু গাজীর ছেলে ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা বনবিভাগ থেকে পাশ নিয়ে বৈধভাবে সুন্দরবনের মাছ, কাকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে আমার বোনাই শহিদুল ইসলাম সুন্দরবন থেকে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে কলাগাছিয়া বনফাঁড়ির ওসি মনিরুল ইসলাম কোন কারন ছাড়াই তাকে আটক করেন। পরে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্চের এসিএফ এম.এ হাসানের মাধ্যমে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার কারন জানতে চাওয়ায় ওসি মনিরুল ও এসিএফ এম.এ হাসান আমিসহ জেলে বাওয়ালীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং জেলে বাওয়ালীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেন। একপর্যায়ে আমাদের পাশ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করতে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনে মাছ, কাকড়া ধরা আমাদের পৈত্রিক পেশা। দীর্ঘকাল ধরে আমরা নদীতে মাছ, কাকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। ইতিপূর্বে আমরা বন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাশ নিয়ে মাছ, কাকড়া ধরতাম। কিন্তু বর্তমানে পাশ নেওয়ার পরও টাকা না দিলে কলাগাছিয়া এলাকা পার হতে দেন না ওসি মনিরুল। নৌকা প্রতি গোন হিসেবে ৫শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তাকে ঘুষ দিতে হয়। বুড়িগোয়ালিনী-গাবুরা এলাকার প্রায় হাজারো জেলে বাওয়ালীরা বর্তমানে কলাগাছিয়ার ওসি ও সাতক্ষীরা রেঞ্চের এসিএফ এর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। অনেকেই সুন্দরবন না গিয়ে বেকার সময় কাটাচ্ছেন। এতে করে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছি। দ্রæত এ সমস্যার সমাধান করা না হলে প্রায় দেড় হাজার জেলে বাওয়ালীরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় অবিলম্বে কলাগাছিয়ার ওসি ও সাতক্ষীরা রেঞ্চের এসিএফ এর হয়রানির হাত থেকে জেলে বাওয়ালীদের মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে, এ ব্যাপারে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের এসিএফ এম এ হাসান জানান, তিনিসহ কলাগাছিয়া বনফাঁড়ির ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে তা আদৌ সত্য নয়। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি এ সময় তার অফিসে এ সংক্রান্ত সকল বৈধ কাগজ পত্র রয়েছে বলে দাবী করে সেগুলো দেখে শুনে নিউজ করার অনুরোধ জানান।


error: Content is protected !!