সৎ মায়ের এ কেমন বর্বরতা!

0 ১৬৭
ইনসেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার তানিশা, ছবিতে তার সৎ মা তিথি আক্তার মুক্তা

সাতনদী অনলাইন ডেস্ক: খুলনায় সৎ মায়ের ক্রোধ ও প্রতিহিংসার বলী হয়েছে ৫ বছরের শিশু কন্যা তানিশা খাতুন। রাতের আঁধারে ঘুমন্ত শিশুটিকে নির্মমভাবে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন সৎ মা তিথি আক্তার মুক্তা (২৫)। সেখানেই শেষ নয়, শিশুটিকে হত্যার পর তানিশার বাবার কাছে ফোন করে প্রতিশোধের কথাও বলেন তিনি।

সোমবার রাতে জেলার তেরখাদা উপজেলার আড়কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানিশা আনসার ব্যাটেলিয়নের কর্মরত খাজা শেখ। পুলিশ এ ঘটনায় তিথি আক্তার মুক্তাকে আটক ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছে। হত্যা ঘটনার সময় খাজা শেখ বাড়িতে ছিলেন না।

একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে অনেকটাই দিশেহারা বাবা খাজা শেখ। তিনি কোনভাবেই সন্তানের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, তিথি (দ্বিতীয় স্ত্রী) খুব জেদি ছিল। বিয়ের সময় সে কোরআন শপথ করে আমাকে বলেছিল যে, সে কোনোদিন আর কাউকে বিয়ে করবে না। করো সাথে সর্ম্পক রাখবে না। ফেসবুক চ্যাটিং করবে না। কিন্তু ফেসবুকে অন্যের সাথে তার চ্যাটিং আমার কাছে ধরা পড়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়। প্রতিশোধ নিতে আমার নিষ্পাপ বাচ্চাটিকে হত্যা করেছে।

খাজা বলেন, ও (তিথি) আমার তানিশাকে হত্যা করে আমাকে মোবাইল করেছে। বলে, আমি কোথাও যেতে পারবো না, তাই তোমার আদরের মেয়েকে মেরেছি। এখন আমাকে পুলিশে দাও। আমি কোনভাবেই এ ঘটনা মানতে পারছি না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আনসার সদস্য খাজা শেখ সাত বছর পূর্বে একই উপজেলার আক্কাস শেখের মেয়ে তাসলিমাকে বিয়ে করেন। ওই ঘরে তানিশা আক্তার নামে এক কন্যার জন্ম হয়। কিন্তু দাম্পত্য কলহের কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে খাজা-তাসলিমা দম্পতির। পরে দেড় বছর আগে মুক্তা খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু কোনোভাবেই তার শিশুকন্যা তানিশা আক্তারকে মেনে নিতে পারছিলেন না সৎ মা। একই সাথে তিথি ফেসবুকে একজনের সাথে চ্যাটিং করতেন। যেটি স্বামী মেনে নিতে পারতেন না। এ নিয়ে রবিবার (৪ এপ্রিল) স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়। এসব ঘটনার জের ধরে সোমবার রাত ১০টার দিকে ঘুমন্ত শিশু তানিশা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করেন মুক্তা খাতুন।

জানা গেছে, তানিশা নানা বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময় বাবার বাড়িতে এলে সৎ মা মুক্তা তাকে নির্যাতন করতেন। সোমবার শিশু তানিশা বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে দাদির কাছে ঘুমায়। সেখান থেকে সৎ মা মুক্তা তাকে উঠিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। রাতে ঘুমন্ত শিশু তানিশা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপান মুক্তা। তানিশার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে রক্ত দেখে তেরখাদা থানায় সংবাদ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশু তানিশাকে উদ্ধার ও তার সৎ মা মুক্তা খাতুনকে আটক করে। জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্ত মাখা ধারালো দা। শিশুটিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সোমবার রাতেই চিকিৎসকরা তানিশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, খবর পেয়ে সোমবার রাতেই খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) এস এম রাজু আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেন।

তেরখাদা থানার অফিসার কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সৎ মা-ই তানিশাকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কোনো কারণ আছে কিনা, সে ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।