অন্ধকার জগতে যেমন ছিলেন পরীমণি

0 ২২৫

সাতনদী অনলাইন ডেস্ক: বিপুল পরিমাণ মাদকসহ নিজ বাসা থেকে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। নায়িকাকে আটকের পর থেকেই প্রকাশ্যে আসছে তার অন্ধকার জগতের নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য।

নায়িকা হিসাবে রাতারাতি তারকা বনে যান পরী। অঢেল টাকা আর অভিজাত জীবন যেন স্বেচ্ছায় ধরা দেয় তার হাতে। দামি গাড়ি, কোটি টাকার ফ্ল্যাট, মূল্যবান অলঙ্কার কি নেই তার? অথচ তার সমসাময়িক নায়িকাদের অনেকে বাসা ভাড়া দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

জানা যায়, সিনেমার শুটিংয়ের আড়ালে প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বেশি পছন্দ করতেন পরীমণি। রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি শেষে মদ্যপ অবস্থায় বের হতেন তিনি। এই নায়িকা নিয়মিত ধূমপান করেন। তার বাসায় বিদেশি সিগারেট ও মদের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

পরীমণির বাসায় ঢুকলে প্রথম দর্শনেই অনেকের চোখ কপালে উঠবে। ড্রইংরুমে ঢুকতেই হাতের বাম পাশে স্বচ্ছ কাঁচেঘেরা একটি রুমে সাজানো সারি সারি বিদেশি ব্র্যান্ডের মদের বোতল। স্থানে স্থানে মদ খাওয়ার প্রয়োজনীয় উপকরণ রাখা আছে। বিভিন্ন সাইজ আর ডিজাইনের গ্লাস দেখলে যে কেউ বিমোহিত হয়ে যাবেন। সেগুলো দেখে মনে হবে পশ্চিমা দেশগুলোর কোনো বিলাসবহুল বারে ঢুকে পড়েছেন আপনি।

অভিযোগ আছে, পরীমণি কথায় কথায় পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করেন। পুলিশও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। গায়ে দামি পারফিউম মেখে বিলাসবহুল গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো পরীর মুখে মদের গন্ধ থাকলেও কেউ তাকে আটকায় না।

জানা গেছে, দেশের সব অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে পরীমণির বেশ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের রেফারেন্সে তিনি বিভিন্ন ক্লাবে যাতায়াত করেন। তারকা হোটেলের বারেও তার যাতায়াতের রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও তার ঘনিষ্ঠদের তালিকায় আছেন অনেক প্রভাবশালীর নাম। যাদের কেউ কেউ পরীকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশেও ঘুরতে যান।

এখানেই পরীর উশৃঙ্খলতার শেষ নয়। কয়েকটি ব্যাংকে মোটা অঙ্কের টাকা রয়েছে তার। যার বেশিরভাগই শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে পেয়েছেন। জানা গেছে, এক পর্যায়ে তিনি পর্নোগ্রাফির নিষিদ্ধ জগতে প্রবেশ করেন। ঘনিষ্ঠ মডেলদের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন একটি চক্র। যাদের কাজ হলো- উঠতি মডেল ও চিত্রনায়িকাদের পর্নোছবি তুলে সমাজের কথিত হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের পাঠানো। তারপর বিভিন্ন ছল-বাহানায় তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করা।

সবসময় নিজের মনের মর্জি মতেই চলেছেন এই নায়িকা। মাত্র তিন টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন পরিচালক কামরুজ্জামান রনিকে। আবেগের বসে সেই বিয়ের স্থায়িত্ব হয় মাত্র ৫ মাস। এর আগে এক সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগদান সারেন পরী। একটা সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে ওই সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বিয়ের খবরের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তখন অবশ্য ওই বিয়ের ব্যাপারে মুখ খোলেননি তিনি।

তবে মিডিয়াতে নাম লেখানোর আগেও পরী গ্রামে থাকাকালীন সময়েও বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। সেই স্বামী ছিলেন একজন ফুটবলার। তার নাম ফেরদৌস কবীর সৌরভ। বাড়ি যশোরের কেশবপুরে। তিন বছর প্রেম করার পর ২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল বিয়ে করেছিলেন তারা। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরী ও সৌরভের কয়েকটি ঘনিষ্ঠ ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল ফেসবুকে। তখন বিয়ের কাবিননামার একটি কপিও ভাইরাল হয়।

এই নায়িকা শিডিউল ফাঁসাতেও সিদ্ধহস্ত। আমার প্রেম আমার প্রিয়া, আরও ভালোবাসবো তোমায় ছবিসহ একাধিক ছবির শিডিউল ফাঁসিয়েছেন বলেও জানা যায়। অনেকেই বলেছেন পরীর শুটিং করতে ইচ্ছে না করলেই শরীর খারাপের বাহানায় শিডিউল ফাঁসাতেন। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার সখ্যতার কারণে পরিচালক-প্রযোজকরাও নায়িকার নানা অন্যায় আবদার সহ্য করতেন।

প্রসঙ্গত, রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার কথিত চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের হাত ধরে বড় পর্দায় পথচলা শুরু করেন পরী। সিনেমায় নাম লেখানোর আগে দীর্ঘদিন তার কাছেই থাকতেন নায়িকা।


error: Content is protected !!