একটি মোটরসাইকেল বিড়ম্বনা: সমাধান কোথায়, আদালতে নাকি বিআরটিএ তে?

0 ২৩২

মালিকানা বৈধ হলেও আদালতে চার চার বার আবেদন না মঞ্জুর, গাড়ী মালিক নাজেহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষ তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য বিভিন্ন যানবাহন যেমন ব্যবহার করে থাকে তেমনি ব্যক্তিগতভাবেও গাড়ী কিনে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু নিজ অর্থে গাড়ী কিনে সেই গাড়ীর জন্য যে এমন নাজেহাল হতে হয় তা জানা থাকলে হয়তো অনেকেই আর গাড়ী কিনতে চাইবে না। এমনই একটি গাড়ী বিড়ম্বনার ইতিকথা আর বিভিন্ন দপ্তরে হাটতে হাটতে গাড়ীর মালিকের নাজেহাল হতে হতে প্রায় সর্বশান্ত হওয়ার কাহিনী এখানে তুলে ধরা হলো যা জানলে অনেকেরই গা শিউরে উঠবে। প্রশ্ন করবে, অসহায়-সমস্যাগ্রস্থ মানুষ যাবে কোথায় ? কোথায় গেলে মিলবে সমাধান ?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার বেতনা ট্রেডার্স থেকে ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর তারিখে নগদ মূল্যে একটি 125 CC TVS STRYKER মোটর সাইকেল ক্রয় করেন এক ব্যক্তি। গাড়ীটির ইঞ্জিন নং FE4DJ1703895 এবং চেচিস নং MD625BF40J1D05067. গড়ীটি ক্রয় করে পর পর দু’বছর তিনি সেন্ট্রাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ হতে ইন্সুরেন্স করেন। ইতোমধ্যে গাড়ীটির রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য মোটরসাইকেল শো’রুমের মাধ্যমে ২০২০ সালের ০৩ মার্চ তারিখে ন্যাশনাল ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় সরকার নির্ধারিত ফিস জমা দেন। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে সারাদেশে লকডাউন থাকা তথা সরকারি অফিস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারনে সহসাই গাড়ীটির রেজিষ্ট্রেশন সহ আনুসঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু হলে গত ২১ অক্টোবর ২০২০ তারিখে বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেল কর্তৃপক্ষ উক্ত মোটরসাইকেলটি পরিদর্শন করেন। মোটরসাইকেলটির কাগজপত্রের ফাইল বিআরটিএ দপ্তরে জমা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হলে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে ৫০০ টাকা দিতে হয় জানিয়ে গাড়ী মালিকের কাছে উক্ত টাকা দাবী করে শো’রুম কর্তৃপক্ষ। তখন গাড়ী মালিক, সরকার নির্ধারিত ফিস ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কাগজপত্রের ফাইল বিআরটিএ দপ্তরে পাঠানোর জন্য বলেন। যথারীতি শো’রুম কর্তৃপক্ষ ফাইল পাঠায়। কিছুদিন পর এ ব্যাপারে শো’রুমে খোঁজ নিলে বিআরটিএ ফাইল ফেরৎ পাঠিয়েছে বলে গাড়ী মালিককে জানানো হয়। কি কারনে ফেরৎ দিয়েছে জানতে চাইলে শো’রুম কর্তৃপক্ষ জানায়, “যেহেতু আপনার গাড়ী বাবদ অতিরিক্ত টাকা দেয়া হয়নি সেহেতু আমাদের বিএসপি হয়নি এই অজুহাতে ফাইল ফেরৎ দিয়েছে এবং আমাদের ঘরের সমস্ত কাজও বন্ধ রেখেছে। এতে করে আপনার কাজও হলো না, আমরাও বিপদে পড়লাম।” এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএসপি না থাকা সত্তে¡ও একই সময়ে বা এর পূর্বে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ শো’রুমের মাধ্যমে ফাইল জমা দেয়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেন সম্পন্ন করে দিয়েছে।
ইতোমধ্যে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত মোটরসাইকেল মালিকের নামে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলায় থানা পুলিশ গাড়ীটি জব্দ তালিকামূলে জব্দ রাখে। পরবর্তীতে বিএসপি সম্পন্ন করে গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে শো’রুম কর্তৃপক্ষ ৬৫৬২/২০ নং ডায়েরীর মাধ্যমে আবারও ফাইলটি বিআরটিএ দপ্তরে জমা দেয়। যার প্রমাণ হিসেবে মানি রিসিটের পিছনে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ তাদের সীল-স্বাক্ষর দিয়ে দেয় যা গাড়ী মালিকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এদিকে গাড়িটি জব্দ থাকায় তা জিম্মায় ফেরৎ পাওয়ার জন্য গত ২০ ডিসেম্বর’২০ তারিখে বিজ্ঞ আমলী আদালত নং ০৮ (আশাশুনি,সাক্ষীরা) এ গাড়ীর স্বপক্ষে কাগজপত্র উপস্থাপন করে আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালতের পক্ষ থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধ্যমে গাড়ীর মালিকানা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতের ০৬নং আদেশের কথা উল্লেখ করে গত ৩১ ডিসেম্বর’২০ তারিখে বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেল এর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। পত্রে তিনি উক্ত গাড়ীটির মূল মালিকের নাম, ঠিকানা এবং রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে থাকলে তার নম্বর সহ প্রতিবেদন প্রেরনের জন্য অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ০৫ জানুয়ারী’২১ তারিখে ৩৫.০৩.০০০০.০০৬.২০.০০৫৯.২১-২৮ নং স্মারকে বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেল এর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) এ.এস.এম ওয়াজেদ হোসেন স্বাক্ষরিত মোটরসাইকেল এর মালিকানা যাচাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর প্রেরন করা হয়। প্রতিবেদনে উক্ত মোটরসাইকেলটির রেজিষ্টেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সরকার নির্ধারিত ফিস জমা দেয়া হয়েছে, মোটরসাইকেল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ৬৫৬২/২০ নং ডায়েরী মূলে ফাইল তার দপ্তরে জমা হয়েছে উল্লেখ করা হলেও কার নামে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য টাকা জমা বা আনুষঙ্গিক কাগজ পত্র জমা দিয়ে আবেদন করা হয়েছে অজ্ঞাত কারনে তা উল্লেখ করা হয়নি। উক্ত প্রতিবেদন প্রাপ্ত হয়ে সে অনুপাতে এবং শো’রুম প্রদত্ত মোটরসাইকেল বিক্রয়ের প্রত্যয়ন পত্র সহ ক্রয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাড়ীটির রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে উল্লেখ করে গত ১৭ জানুয়ারী’২১ তারিখে আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। প্রতিবেদন থেকে মোটরসাইকেলটির মালিকানা সঠিক আছে বলেও প্রতিয়মান হয়। আদালতে মালিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পৌছালে গাড়ীটি জিম্মায় ফেরৎ পাওয়ার জন্য আদালতে আবারও নিয়মানুয়ায়ী আবেদন করা হয়। এবার বিজ্ঞ আদালতের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেলটির রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসার জন্য বলা হয়। আদেশ প্রাপ্ত হয়ে গাড়ীর মালিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসে। পর-পর তিন/চার দিন বিআরটিএ অফিসে হাটতে থাকেন। কিন্তু অফিসের প্রধান কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় অফিসের অন্যদের সাথে কথা বলেন। কিন্তু তারা বলেন, স্যার ছাড়া আমাদের কিছুই করা নেই। অফিস প্রধান সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) এ.এস.এম ওয়াজেদ হোসেন এর দেখা পাবেন এই আশায় গাড়ী মালিক তার নিজ বাড়ি থেকে ২৫/২৬ কিঃমিঃ পথ মাড়িয়ে একটানা কয়েকদিন যাতায়াত করে গত ২০ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে আবারও সেখানে হাজির হন। কিন্তু অফিস প্রধান না থাকায় অগত্যা মোবাইল ফোনে তার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেন। তখন তিনি আদালতের আদেশ ছাড়া জব্দ থাকা গাড়ীর রেজিস্ট্রেশন করে দিতে পারবেন না বলে জানান। তখন কেন তাকে অফিসে পাওয়া যাচ্ছে না, এ ব্যাপারে কাগজপত্র দেখানো সহ তার সাথে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে গাড়ি মালিককে তিনি বলেন, “আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারী,২১) আমি অফিসে আসতে পারব না, আপনি রবিবারে আসেন, আমাকে পাবেন।” কথা অনুযায়ী ৩ দিন পর ২৪ জানুয়ারী বুধবার গাড়ী মালিক তার দপ্তরে হাজির হন কিন্তু বিঁধি বাম, এদিনও অফিস প্রধান অফিসে আসেননি। তখন মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে দেয়ার একটি লিখিত আবেদন ব্যক্তিগতভাবে গাড়ী মালিকের পক্ষ থেকে অফিস সহকারীর কাছে দেয়া হলে তিনি স্যারের অনুমোতি ছাড়া তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। অতঃপর মোবাইলে অফিস প্রধানের সাথে কথা বলা হলে তিনি লিখিত ঐ আবেদনটি জমা রাখার জন্য অফিস সহকারীকে বললে অফিস সহকারি তা রিসিভ করেন। একই সময়ে গাড়ী মালিক এ সংক্রান্ত ব্যাপারে দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে ছুটাছুটি করতে যেয়ে তার অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ও পারিবারিক দূরাবস্থার কথা উল্লেখ করে এ ব্যাপারে উক্ত কর্মকর্তার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করলে তিনি গাড়ীটির রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনে বিজ্ঞ বিচারকের খাস কামরায় যেয়ে কথা বলে রেজিষ্ট্রেশনের আদেশ/অনুমোতি নিয়ে আসার সদিচ্ছা ব্যক্ত করেন।
এদিকে গাড়ীটি জিম্মায় ফেরৎ পাওয়া বিষয়টি পূনঃর্বিবেচনা করার জন্য বিআরটিএ এর টাকা জমা সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন সহ ২৫ জানুয়ারী’২১ তারিখে আদালতে আবারও নিয়মানুয়ায়ী আবেদন করা হয়। এবারও বিজ্ঞ আদালতের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেলটির রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসার নির্দেশনা দিয়ে আবেদন না মঞ্জুর করা হয়। অপরদিকে একইদিন বিকালে দেখা মেলে বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারি পরিচালকের। তার সাথে গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত ব্যাপারে গাড়ী মালিকের কথা বলা হলে তিনি তার পূর্বের কথাই পূনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ ছাড়া রেজিষ্ট্রেশন করে দিতে পারবেন না। এমনকি তিনি আদালতে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধান করে দেয়ার যে সদিচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন তা করতে পারবেন না জানিয়ে দেন। তখন আদালতের আদেশ/অনুমোতি আনার লক্ষ্যে গাড়ী মালিক তার গাড়ী রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত আবেদন পত্রের একটি লিখিত উত্তর চাইলে তিনি তা দিতে সম্মত হন। এ ব্যাপারে তিনি অফিস সহকারীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে গাড়ী মালিককে একটি অবগতি পত্র দেন, যা প্রকৃতপক্ষে ২৬ জানুয়ারী তারিখে হস্তগত হয়। উক্ত পত্রে তিনি উল্লেখ করেন “যেহেতু আপনার নামে মামলা হওয়ায় ইঞ্জিন নং FE4DJ1703895 এবং চেচেস নং MD625BF40J1D05067 মোটরসাইকেলটি জব্দ আছে সেহেতু মোটরসাইকেলটির রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে কি না সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন। পরবর্তীতে আদালতের অনুমোতি পাওয়া গেলে অত্র মোটরসাইকেলটির রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।” অবগতি পত্র পেয়ে গাড়ী মালিক আদালতের আদেশ/অনুমোতি পাওয়ার মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তার গাড়ী ফেরৎ পাবেন এবং তার আদালতপাড়া, বিআরটিএ দপ্তর, আইনজীবীর চেম্বার, ফটোকপির দোকান সহ বিভিন্ন যায়গায় দৌড়াদৌড়ির অবসান হবে এই আশায় ২৭ জানুয়ারী তারিখে নিয়মানুযায়ী আবারও আদালতের দারস্থ হয়ে উক্ত অবগতি পত্রের কপি আদালতে পেশ করে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা/ অনুমোতি দেয়ার আবেদন করেন। কিন্তু শুনানী শেষে এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা লাগবে বিআরটিএ এর কোন আইনের কোন ধারায় আছে- তা উক্ত অবগতিপত্রে উল্লেখ করা হয়নি, এ সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করার কথা উল্লেখ করে আবেদনটি নথিভূক্ত করেন এবং আগামী ০৩/০২/২১ তারিখে পরবর্তী দিন নির্ধারন করেন বিজ্ঞ আদালত।
এদিকে খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনায় মামলায় জড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে সর্বশান্ত হয়ে গেছে গাড়ী মালিক। নিজের কোন জায়গা জমি বা আয় উপার্জন না থাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ধার দেনা করে ইতোমধ্যেই বড় অঙ্কের ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট ঐ পরিবারটি। এরই মধ্যে গাড়ীর পেছনে ছুটতে ছুটতে নাজেহাল হওয়া ঐ ব্যক্তির ভাগ্যে ঘটে আরেক দূর্ঘটনা। গাড়ী রেজিষ্ট্রেশনের জন্য বিআরটিএ কে অনুমোতি দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২৭ জানুয়ারী’২১ তারিখে আদালতে শুনানী শেষে নির্দেশনা না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এদিন আদালত থেকে বের হওয়ার পথে চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের প্রবেশ পথ সংলগ্ন মেইন রোডে পৌছানো মাত্রই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। পাশেই অবস্থিত মান্নান হোটেলের লোকজন তাকে তাদের হোটেলে বসতে দিয়ে পানি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। প্রায় আধা ঘন্টা পর তিনি কিছুটা সুস্থতা বোধ করলে তারা তাকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেতে দেন।
পরবর্তীতে এদিন বিকাল সাড়ে তিনটায় দিশেহারা গাড়ী মালিক আবারও ছুটে যান সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসে। কিন্তু যথারীতি এদিনও সহকারি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ারের কক্ষে ঝুলছিল তালা। খোঁজ নিয়ে তিনি দেখেন স্যার আসেননি। তাই অগত্যা আবারও ফোনে যোগাযোগ করেন তিনি। সালাম জানিয়ে আদালতের শুনানীর কথা উল্লেখ করে বলেন, “স্যার আপনি যে অবগতি পত্রটা আমাকে দিয়েছেন তা পেশ করে আদালতের অনুমোতি চেয়ে আবেদন করেছিলাম কিন্তু তাতে আমার মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আদালতের নির্দেশনা লাগবে বিআরটিএ আইনের কোন ধারায় বলা আছে তা জানতে চেয়েছে বিজ্ঞ আদালত। তাই বিষয়টি উল্লেখ করে পূনরায় আমাকে একটি চিঠি দিয়ে সহযোগিতা করলে আমি উপকৃত হতাম।” কথা শুনেই তেলে বেগুণে জ্বলে উঠেন তিনি। বলেন, কোন আইনে আছে আমি বলতে পারব না, প্রয়োজন হলে আদালত আমাকে চিঠি দেবে, আমি তার জবাব দেব, আমার যা বলার আমি বলে দিয়েছি, আপনি আমাকে ফোন করবেন না। আমি আপনাকে কোন সহযোগিতা করতে পারব না।” তখন গাড়ী মালিক স্যার আপনি সহযোগিতা না করলে যাব কোথায় বললে, তিনি বলেন,“আমি ওপেন ঘোষণা দিলাম – কোথায় যাবেন জানিনা, প্রয়োজনে আমার নামে মামলা করেন।” এভাবে কথা বলতে বলতে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ঐ কর্মকর্তা।
এখন কি হবে এই গাড়ীর ফয়সালা? নিজ টাকায় গাড়ী কিনে সেই গাড়ী কি রোদ-বৃষ্টি-কুয়াশায় ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ? বৈধ মালিকানার সকল কাগজপত্র থাকা সত্তে¡ও কেন মালিক তার মোটরসাইকেল ফেরৎ পাবে না ? দিনের পর দিন বিভিন্ন যায়গায় হাটতে-হাটতে, ছুটতে-ছুটতে আর কত নাজেহাল হতে হবে একজন গাড়ী মালিককে ?
ভূক্তভোগী সহ সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রতিদিন হাজারো রেজিষ্ট্রেশন বিহীন গাড়ী চলে রাস্তা-ঘাটে, পার্কিং করা থাকে বিভিন্ন অফিস-আদালতের সামনে, এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যালয়ের সামনেও দেখা মেলে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন অসংখ্য মোটরসাইকেলের, সেগুলোতো সব সময় জব্দ করা হয় না ? মালিকানা যাচাইয়ান্তে অনেক গাড়ীও আদালতের মাধ্যমে জিম্মায় ফেরৎ পায় তার মালিক। তাহলে এই একটি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কেন এতো বিড়ম্বনা ?