করোনাকালীন সময়ে প্রায় কোটি টাকার অর্থ সহায়তা দিলো ওয়ার্ল্ড ভিশন

উপকারভোগী: খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের তিন সহস্রাধিক পরিবার

0 ২৪৭

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: করোনাকালীন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সারাদেশে ১৮হাজার ৬শ’ ৮৪ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের ৩ হাজার ১শ’ ৫৭ পরিবারের মধ্যে ̈ ৯৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত প্রায় দু’মাসের অধিক সময় ধরে লকডাউনের কারণে সংকটে থাকা নি¤œ আয়ের মানুষের পরিবারের তাৎক্ষনিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী মাসুম শেখ (৪৭), একটা রিক্সা মেরামত কারখানায় কাজ করে। তিন সদস্যের পরিবারে তিন বেলা আহারের সংস্থান করেন। তিনি বলেন “এই সংকটের সময় ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই অর্থ সহায়তায় যে কতটা উপকৃত হয়েছি তা বোঝাতে পারবো না। গত তিন মাস ধরে আমার উপার্জন বন্ধ, ধার দেনা করে অনাহার অর্ধাহারে বহু কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমার শরীরিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারছিনা। আজ বিকাশের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা পেয়েছি, আজই ডাক্তারের কাছে যাব। এছাড়া ধার-দেনা শোধ করব আর কিছু জরুরী খাদ্য কিনতে হবে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সাউদার্ন বাংলাদেশরিজিওনের পরিচালক লিমা হান্না দারিং বলেন “এই ধরনের সংকটে শিশুরা নির্যাতন ওশোষণের মতো বিষয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে যে সময় তাদের মানসিক সাহায্য খুব প্রয়োজন। ইবোলা মহামারীর মতো অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে শ্রেণীকক্ষের বাইরে থাকায় শিশুদের প্রতি বাড়ীতে সহিংসতা বিশেষ করে শারীরিক ও যৌন সহিংসতা, বাল্য বিবাহ এবং মানসিক নির্যাতন বেড়ে যায়।”

মাসুম শেখের মতো সাউদার্ন বাংলাদেশ রিজিওনের (খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) শহরাঞ্চলের ২শ’ ৪২পরিবার ৫ হাজার টাকা করে এবং গ্রামাঞ্চলের ২ হাজার ৯শ’ ১৫ পরিবার ৩ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা পেয়েছে।

লিমা হান্না দারিং আরও বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের কোভিড-১৯ সংক্রমন প্রতিরোধের প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসাবে এ বছরের এপ্রিল মাসে ওয়ার্ল্ড ভিশন জাতীয় পর্যায়ে কোভিড-১৯ সাড়াদান কর্মসূচী গ্রহণ করেছে যার লক্ষ্য হল জনগণের জীবন রক্ষার উপকরণ, সেবা ও তথ্য প্রদান করা।

ওয়ার্ল্ড ভিশন সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সাথে তাদের শিশুদের জীবন মানের উন্নয়নে কাজ করে থাকে।কোভিড-১৯ বিস্তারের কারণে অবহেলিত এ সকল মানুষের জীবন ও জীবিকায় খুবই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কোভিড-১৯ সাড়াদান কর্মসূচী দেশের ২৪ জেলায় ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্ম এলাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে যার মাধ্যমে শিশু, প্রতিবন্ধী মানুষ, নারী ও শিশু প্রধান পরিবারের চাহিদাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমরা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবেকাজ করে উপকার ভোগী নির্বাচন করেছি।”একটি ব্যাংকের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকরাী সংস্থা সহযোগিতায় উপকার ভোগীর মোবাইল ব্যাংক এ্যাকাউন্টে সহায়তার অর্থ সরাসরি চলে যায় । মাত্র ২/৩ দিনের মধ্যে নিরাপদে ও দক্ষতার সাথে পৌছে যাচ্ছে এই সেবা। উপকার ভোগী নির্বাচন থেকে অর্থ হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটাই বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।প্রথমে ব্যাংকে অর্থ প্রদানের আদেশ দেয় ওয়ার্ল্ড ভিশন, পরে সেই অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারীর কাছে চলে যায়- বলেন লিমা হান্না দারিং।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কোভিড-১৯ বিষয়ক সতর্ক বার্তা এবং সাবান, মাস্ক এর মতো হাইজিন সামগ্রী প্রদান করার মাধ্যমে মাসুম শেখের মতো পরিবারের লোকদের ভাইরাস সংক্রমনের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত দক্ষিানঞ্চলে ওয়ার্ল্ড ভিশন ২ হাজার ৬শ’ ২৮ পরিবারকে হাইজিন কিট্স, ১ হাজার ৬শ’ ৮ পরিবারকে হাত ধোয়ার সরঞ্জাম, ৫শ’২৭ জন স্বাস্থ্য কর্মীকে পিপিই এবং ৫শ’ ৮৯ জন স্বাস্থ্য কর্মীকে মাক্স, গ্লাভস ও হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরণ করেছে। আমাদের সামনের সারির কর্মীরা কমিউিনিটির নেতাদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে শিশু, পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধী বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।


error: Content is protected !!