করোনা কালে পিএন হাইস্কুলের টাকা কামাই!

*মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানা হয়নি *অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন জেলা শিক্ষা অফিসার

0 ২২৪
পিএন হাইস্কুল

আহাদুর রহমান: পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট ও বিজয় দিবস উৎযাপনের ফি আদায় করা হয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা থাকায় ওই ফি আদায়ের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের রশিদ প্রদান করেনি। করোনাকালীন সময়ে বাড়তি এ টাকার চাপ মেটাতে অভিভাবকরা ধার-দেনা করে এ টাকা জমা দেন। এ ছাড়াও টিউশন ফি ও বাড়তি ফি’র টাকা না দিলে গ্রহণ করা হয়নি একটি অ্যাসাইনমেন্টও।
করোনাকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো (এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন স্কুল-কলেজ) শুধু নির্ধারিত টিউশন ফি আদায় করতে পারবে। এর বাইরে অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃর্ভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে কোনো ফি আদায় করতে পারবে না। করা হয়ে থাকলে, তা ফেরত দিতে হবে অথবা টিউশন ফির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। একইভাবে অন্য কোনো ফি যদি ব্যয় না হয়ে থাকে, তাহলে তাও ফেরত দিতে হবে অথবা টিউশন ফির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এ নির্দেশনা এড়িয়ে গিয়ে পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে টিউশন ফি, অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ও বিজয় দিবস উৎযাপনের জন্য ১০০ টাকা করে। এ ছাড়াও চলতি বছরের পিকনিকের চাঁদা বাবদ পূর্বেই ৩০০ টাকা করে আদায় করা হলেও তা বেতনের সাথে সমন্বয় করা হয়নি। স্কুলটিতে অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত ২৫০ টাকা ও অষ্টম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত ৩০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এ টাকা আদায়ে অভিভাবক বা শিক্ষার্থীদের কোন রকম আবেদন নিবেদন শোনা হয়নি স্কুল থেকে। সমন্বয় করা হয়নি পূর্বে আদায়কৃত সকল ফি। সেই সাথে উল্টো আদায় করা হয়েছে বিজয় দিবস উৎযাপন ফি বাবদ ১০০ টাকা।
বিঃদ্রঃ বক্তব্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নাম পরিচয় গোপন রাখা হলো।
অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়রত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বাসা থেকে কুড়িয়ে সব টাকা নিয়ে এসে স্কুলে জমা দিলাম। সব দেনা পাওনা না মেটালে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ আমার কাছ থেকে ৩০০ টাকা জোর করে আদায় করা হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমি এ পর্যন্ত আমার সন্তানকে চারবার স্কুলে পাঠিয়েও অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারি নাই। প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করলে তিনি আমার সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু সে স্কুলে গেলে আবারও টিউশন ফি ও অ্যাসাইনমেন্টের টাকার জন্য বাড়ি ফিরিয়ে দেয়া হয়। টিউশন ফি জমা না দিলে অ্যাসাইনমেন্টও জমা নিবেনা। কোন রকমে অ্যাসাইনমেন্টের ৩০০ টাকা জোগাড় করে স্কুলে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু টিউশন ফি এখন পাই কোথায়।
ষষ্ঠ শ্রেণীর দুই ছাত্র জানায়, অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ আমরা ২৫০ টাকা করে জমা দিয়েছি। আবার বেতন পরিশোধ না করলে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেয়া হচ্ছে না। বেতন থেকে ৩০ টাকা করে কম নেওয়া হয়েছে।
অ্যাসাইনমেন্ট ও বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভদ্র কান্ত সরকার জানান, অ্যাসাইনমেন্টের বিষয়ে কোন নির্দেশনা পাওয়ার আগেই আমাদের স্কুলের প্রায় সবার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়াও টিউশন ফি বাবদ বড় অঙ্কের ছাড় দিয়েছি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই। তবে বিজয় দিবস উৎযাপনের জন্য কোন ধরনের টাকা পয়সা আদায় করা হয়নি। আর পিকনিকের ফি বাবদ ২০০টাকা করে ভর্তির সময়ই নেওয়া হয়েছিল। যা এখনও ব্যাংক একাউন্টে সংরক্ষিত আছে। সেটা আগামী বছরের পিকনিক ফি বাবদ রেখে দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অ্যাসাইনমেন্টের জন্য এক টাকাও জমা নেওয়া যাবে না। টিউশন ফি মানে শিক্ষার্থীর মাসের বেতন। এ ছাড়া অন্য কোন খাতে কোন ফি আদায় করতে পারবেনা স্কুল কর্তৃপক্ষ। টিউশন ফির ক্ষেত্রে বিগত বছর যে হারে ফি নেওয়া হয়েছে সেই হারেই নিতে হবে। টিউশন ফি বাড়ানোর সুযোগ নাই। যদি কোন স্কুলে এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।