কালিগঞ্জে হোয়াইট স্পট ও রেড ভাইরাসের আক্রমনে ঘের ব্যবসায়ীরা বিপাকে

কর্তৃক Ahadur Rahman Jony
০ কমেন্ট 16 ভিউস

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে : কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে চিংড়ী ঘের ব্যবসায়ী ও মৎস্য চাষীদের ঘেরে হঠাৎ করে হোয়াইট স্পট রেড ভাইরাসে ঘেরের বাগদা চিংড়ী মরে যাওয়ায় চাষীরা সর্বশান্ত হয়ে পথে বসতে চলেছেন। এবছর বুকে আশা বেধে ধারদেনা করে বছরের শুরুতেই চাষীরা ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতেই প্রখর রৌদ্র এবং গরমে মাছের ভাইরাস লেগে লোকসান গুনতে শুরু করেন। বর্ষা মৌসুমে ভালো চিংড়ী বাগদার ফলনে লোকসান পুষে আসবে সেই আশায় ২য় পর্বে ঘেরে আবার বাগদা চিংড়ী পোনা ছেড়ে কিছুটা হলেও আলোর মুখ দেখতে শুরু করেন চাষীরা। তবে বছরের শেষ ভাগে এসে হঠাৎ করে কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ছোট বড় ঘেরে বাগদার মড়ক লাগায় চাষীরা দিশে হারা হয়ে পড়েছেন। মাছ মরার কারণ হিসাবে তারা বৈরী আবহাওয়া এবং স্পট ও রেড ভাইরাস কে দায়ী করে আসছেন। এই ভাইরাসের আক্রমনে ঋণগ্রস্থ কয়েক হাজার চিংড়ী চাষী সর্বশান্ত হতে চলেছেন। সোমবার দুপুরে উৎবেগের সাথে এমনটাই জানিয়েছেন বাঁশতলা, বন্দকাটী, গোবিন্দকাটী, থালনা, ইউসুফ পুর, চান্দুলিয়া, মশর কাটী, উজিরপুর, বরেয়া, তারালী, বৈরাগীর চক, কাজলা, রতনপুর এবং দক্ষিণশ্রীপুর গ্রামের মৎস্য চাষীরা। অথচ এ সংক্রান্ত খবর উপজেলার মৎস্য অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারীরা জেনেও পর্যাপ্ত লোকবল এবং প্রতিশোধক কোন ঔষধ না দিতে পারলেও পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়েছে অনেক চাষীর। কালিগঞ্জ উপজেলায় মোট চিংড়ী ঘেরের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজারের মতন। মোট আয়তন সাড়ে ১০ হাজার একর। এখানে চাষীরা বছরে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন বাগদা উৎপাদন ছাড়াও বিপুল পরিমান সাদা মাছ উৎপাদন করে থাকেন। উপজেলা জুড়ে প্রায় ৯শতাধিক মৎস্য চাষী রয়েছেন। চিংড়ী শিল্প এবং মাছ চাষে এঅঞ্চলের ২ লক্ষ মানুষের ভাগ্য জড়িত রয়েছে। বন্দকাটী গ্রামের সাত্তার, আকবর, মন্টু, মশর কাটী গ্রামের নুর ইসলাম, হানিফ, চান্দুলিয়া গ্রামের রমেশ, মধু, নির্মল, সামাদ, থালনা গ্রামের ঠাকুর দাশ, উজিরপুর গ্রামের মোজাম্মেল হক, কাজলা গ্রামের আবুল হোসেন, তেঁতুলিয়া গ্রামের গফফার, তারালী গ্রামের ইসরাফিল সহ অনেক চিংড়ী চাষী জানান এবছর তারা শুরুতেই ঋণ নিয়ে চিংড়ী পোনা ছেড়ে অনেক আশায় বুক বেধে চিংড়ী চাষ শুরু করেছিলেন। মনে করে ছিল চিংড়ী বিক্রি করে ধারদেনা মেঠাবে। কিন্তু হঠাৎ করে ঘেরে ভাইরাস লাগায় এখন বছর শেষ করবে কিভাবে সেটা নিয়ে চিন্তার কোন শেষ নেই চাষীদের। শেষ মৌসুমে যদি একটু চিংড়ীর ফলন ভালো হয় তাহলে হয়তো তারা পুষিয়ে নিতে পারবে। এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান ভাইরাসের বিষয়টি আমরা জানি তবে আমাদের পর্যাপ্ত লোকবল এবং প্রতিশোধক ঔষধ না থাকায় চাষীদের পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!