কয়রা উপকূলে রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ, জনমনে ফিরছে স্বস্তি

কর্তৃক Ayub hossaen Rana
০ কমেন্ট 114 ভিউস
মেহেদী হাসান, খুলনা থেকে: খুলনার আকাশে মঙ্গলবার সকাল থেকে রৌদ্রজ্জ্বল। আকাশে মাঝেমধ্যে মেঘ দেখা গেলেও আবহাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে অতিবর্ষণের কারণে রাস্তাঘাটে এখনো পানি জমে আছে।

তিন দিন ধরে চরম আতঙ্কে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং দুশ্চিন্তায় রাত কাটানোর পর সোনালী সূর্যের দেখা পেয়েছে উপকূলবাসী। বড় কোনো ক্ষতি ছাড়াই ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং উপকূল পাড়ি দেওয়ায় খুলনার কয়রার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

খুলনার উপকূলবর্তী অঞ্চাল কয়রার মানুষ আইলা, সিডর ও আম্পানের মতো ঝড়ে বারবার আক্রান্ত হয়েছে। তাই নতুন করে বাংলাদেশমুখী সিত্রাং নামক ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানিতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করেছিলো এই অঞ্চালে বসবাসকারীদের মধ্যে।

খুলনায় সিত্রাং মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়াসহ খোলা হয়েছিলো নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভায় এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং থেকে রক্ষায় সোমবার দুপুরে কিংবা বিকেলে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে না এলেও সন্ধ্যায় কয়রার স্থানীয় মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস, এম শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকুনুজ্জামান রাতেই সেসব মানুষের খোজ খবর নেন এবং তাদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ  করেন। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাব কেটে যাওয়ার পর পরই আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়েছে মানুষ। সকালের মধ্যে অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্রই খালি হয়ে যায়।

ঝড়ের চেয়ে কয়রার উপকূলবাসীর বেশি ভয় বেড়িবাঁধ নিয়ে। উপকূল সুরক্ষায় অর্ধশত বছরেরও আগে নির্মিত বেড়িবাঁধ এখন আর সামাল দিতে পারছে না সামুদ্রিক ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা। আগে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ কোনোরকমে টিকে আছে। নদীর পানি বাড়লেই বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেয়। সরকার নতুন করে এখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিলেও কাজ শুরু হয়নি। আশ্বাসে আশ্বাসেই পার হয়েছে এক যুগ। সোমবার ভোরে হরিণখোলা ও গাতিরঘেরীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের নিয়ে মেরামতের কাজ চলে। উপজেলার হোগলা, দোশহালিয়া, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট, ঘাটাখালী, গাববুনিয়ার, আংটিহারা, ৪ নম্বর কয়রা সুতির গেট ও মঠবাড়ির পবনা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী হরিণখোলা এলাকার বাঁধের ধসে যাওয়া অংশটি স্থানীয় লোকজন কোনোরকমে সংস্কার করেছেন। পাউবো কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জরুরিভাবে তা ভালো করে মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আপাতত তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সিত্রাংয়ের শঙ্কা কেটে গেছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকুনুজ্জামান বলেন, সিত্রাংয়ের প্রভাব কেটে যাওয়ায় সকাল থেকে আশ্রিত লোকজন বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। উপজেলার ১১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার ও অন্যান্য স্থাপনায় আরও ৯ হাজার মানুষ ঠাঁই নিয়েছিল। এর মধ্যে থেকে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ বাড়িতে ফিরেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এলাকায় থেকে প্রশাসন ও নেতাকর্মী নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খাদ্য বিরতন ও সবকিছু মনিটরিং করেছি। একটি পয়েন্টে ভাঙ্গন দেখা দেয় তাৎক্ষনিক মেরামত করা হয়েছে সাথে সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে উক্ত স্থান দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত করতে।
তিনি আরও বলেন, এসব বাধ নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপের জন্য তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন।

খুলনা জেলার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫০ জনের জন্য ৪০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। সিত্রাংয়ের প্রভাবে ক্ষয়-ক্ষতির ঝুঁকিতে ছিল খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!