খুলল পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘতম সেতু

0 ১৫১

অনলাইন ডেস্ক :

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বহুল প্রত্যাশিত রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘতম সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কক্সবাজারের বালুখালী থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত পর্যন্ত সংযোগ সড়কেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

একই সময় তিনি কক্সবাজারের বালুখালী থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত সংযোগ সড়কের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে গণভবন থেকে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটির দুর্গম তিন উপজেলার মানুষ চেঙ্গী নদীর ওপর একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিল ছয় দশক ধরে। তাদের সেই স্বপ্নের সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন বিকাশের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হলো বলে কর্মকর্তাদের বিশ্বাস।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ২০ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) ৫০০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নিমার্ণ করেছে। অ্যাপ্রোচ সড়কসহ সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২২৭ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কক্সবাজারের বালুখালী থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম পর্যন্ত ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৯ কোটি টাকা।

সেতুর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে যোগাযোগের বাধা দূর করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা নিচ্ছি।  যেমন এশিয়ান হাইওয়ে ও এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গেও আমরা বাংলাদেশকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করছি। এসকাফ প্রকল্পটা এগিয়ে নিচ্ছি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমরা যে কাজ করে যাচ্ছি, এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজারের বালুখালী থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিই। সড়কটি এশিয়ান হাইওয়ের একটি অংশ।

 

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে। সে কারণে উন্নয়নকাজ কিছুটা ব্যাহত হয়। পরে আমরা সেই কাজ শুরু করি। আমি মনে করি যে নির্ধারিত সময়ে কাজটি সমাপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নানিয়ারচরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই সেতু নির্মাণের ফলে শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন আরও একধাপ এগোলো। এতে করে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে ভূমিকা রাখবে।

ভিডিও কনফারেন্সে নানিয়ারচর থেকে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, নানিয়ারচর উপজেলা সদরে চেঙ্গী নদীর ওপর দিয়ে আধা কিলোমিটার (৫০০ মিটার) দৈর্ঘ্যের ওই সেতুটির নির্মাণকাজ ২০১৬ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে তা শেষ হয় ২০২১ সালের ৩০ জুন। জমি অধিগ্রহণসহ নির্মাণকাজে মোট ব্যয় হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা প্রায়। এটির নির্মাণকাজ করেছে সেনাবাহিনীর ২০ ও ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন।

সেতুটি নির্মাণে রাঙামাটি জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগে সংযুক্ত করবে নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলাকে। বর্তমানে নানিয়ারচর উপজেলা সদর হতে লংগদু উপজেলা সদর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ চলছে।

নির্মাণকাজে আরও ১৬ কিলোমিটার সড়ক অবশিষ্ট রয়েছে। লংগদু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ শেষ হলে রাঙামাটি সদর হতে নানিয়ারচর, লংগদু ও দীঘিনালা হয়ে সরাসরি সাজেক ও বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিমা পর্যন্ত সড়কপথে যানবাহন চলাচল করবে।


error: Content is protected !!