চট্টগ্রামে করোনা সমাচার ১, আজকের বিষয়- গৃহকর্মী

মো: কামাল উদ্দিন

0 ৪০৭

পুরোদেশে করোনা ভাইরাসের আজ প্রতিটি মানুষ দিশেহারা, আর্থিক সংকটে অনেকে হয়েছে চন্নহারা, পুরোদেশের অবস্থা সংবাদপত্র ও টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে অনুধাবন করলেও সরাসরি দেখতে পাচ্ছি, তার বাস্তবতার নিরিখে চট্টগ্রামের করোনা সমাচার লিখছি। প্রথমে চট্টগ্রামে করোনার কারণে সংকট কি কি, সংকটের কারণে সমস্যা কি কি হচ্ছে? হাজারও প্রশ্ন প্রতিটি মানুষের মনে বারংবার তাগিদ দিচ্ছে। করোনার কারণে বাজারের প্রতিটি নিত্যপণ্য সামগ্রীর মূল্য দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নি¤œ আয়ের মানুষেরা অর্ধাহারে, অনাহারে, দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে কাজের বুয়া (গৃহকর্মী), দিন মজুর, সাধারণ শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান চালক, পত্রিকার হকার, সকল ধরনের অটো চালক, সাধারণ পরিবহন শ্রমিক, দোকান কর্মচারী, ফেরিওয়ালা, পরিবহন সংশ্লিষ্ট গ্যারেজ শ্রমিকসহ কুলি-মজুর এর পাশাপাশি অসংখ্য পেশার মানুষ এর মাঝে তাদের সাথে যোগ হয়েছে বেকার যুবক ও মধ্যম আয়ের মানুষ। কেউ নিজের মনের ভাব প্রকাশ্য বলতে পারছেনা। সবার কথা একে একে প্রকাশ করবো। আজকের বিষয় গৃহকর্মী বা কাজের বুয়া, চট্টগ্রাম শহরে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ২ কোটি মানুষ বসবাস করে পাঁচলক্ষ্যের মতো পরিবার রয়েছে। তার মধ্যে পঞ্চাশ হাজারের মতো পরিবারে প্রায় বাসাতে একাধিক গৃহকর্মী নিয়মিত কাজ করেন। দৈনিক ও ঘন্টা বেসিক ৮০% এর মত হলেও মাসিক হিসাবে রয়েছে ২০%। আশি ভাগ ছুটা বুয়া কাজ করলে তাদের সংখ্যা চল্লিশ হাজারের মতো হবে। এই বুয়াদের আয়ের উপর জীবিকা নির্ভর করে তাদের পরিবার। ঐসব বুয়ারা বেশিভাগ স্বামীহারা, পরিবার হারা, স্বামী পরিত্যক্ত, অশিক্ষিত অর্ধ বয়সের নারী। তাদের প্রতিটি ঘরে একাধিক ছেলে সন্তান রয়েছে। ঐ সন্তানদের জীবিকা নির্ভর করে একমাত্র মায়ের বুয়াগিরির আয়দিয়ে। প্রতিটি বুয়া সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বাসায় ঐ বাসায় কাজ করলেও রাতের বেলায় তাদের নির্দিষ্ট নিড়ে চলে যায়। তাদের অবুঝ সন্তানরা মায়ের অপেক্ষায় থাকে, বেশিভাগ বুয়ারা সাহেবদের বাসায় কাজ করে চলে যাওয়ার সময় সাহেবদের পরিবারের তাদের খাওয়ার অনুপোযোগী ভাত তরকারি বুয়ারা নিয়ে যায়। আবার অনেক মানবিক পরিবার রয়েছে নিজেদের থেকে ভালো খাওয়ার বুয়াদেরকে দিয়ে থাকে। বুয়ারা আলিশান বাড়ীতে কাজ করলেও তাদের ঠিকানা নগরির কোনও কোননা বস্তিতে। একদিকে বুয়াগিরি করে সংসার চাললেও তার সাথে যোগ রয়েছে বস্তিতে ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিল। তাদের অনিশ্চিত জীবন কোনভাবে গৃহকর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও এই সর্বনাশা করোনার কারণে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে অর্ধাহারে-অনাহারে। করোনার দোহাই দিয়ে প্রতিটি আলিশান বাড়ি-গাড়ির মালিকগণ বাসায় বুয়া প্রবেশ একেবারে নিষেধ করে দিয়েছে। বিশেষ করে বহুতলা টাওয়ারের মালিকদের সমিতির তথাকথিত সমিতি কর্মকর্তারা বুয়াদের উপর মার্শাল ল জারী করেছেন। যে বুয়া ব্যতীত বাসা অচল ছিলো, সেইসব বাসায় আজ বুয়া বিহীন পরিচালিত হচ্ছে। কোনও ভাবে বুয়া যেন ভুলক্রমেও প্রবেশ করতে না পারে। তার জন্য নিরাপত্তা প্রহরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদের করোনা পর্যালোচনা দেখা যায় যে আল্লাহর বিশেষ রহমতে আজ পর্যন্ত কোন বুয়া হতে শুরু করে নি¤œ আয়ের কোন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয় নাই। আগামীতেও সম্ভাবনা নাই ইনশাল্লাহ।
আমি যে সব পেশার মানুষের কথা উল্লেখ করেছি সে সব মানুষদের মাঝে কেউ করোনা ভাইরাসে শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ বা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর একেবারে নেই বলেল ভুল হবেনা। এই পর্যন্ত করোনা রোগে যে সব মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে বিত্তবানদের সংখ্যা খুব বেশী। আমরা যাদেরকে করোনা রোগের কারণে ভয় করি তারাই করোনাকে জয় করে দিন চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষের দু:খের কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথাযত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজের অর্ধহারেরও অনাহারি মানুষকে রক্ষা করতে। কিন্তু গৃহকর্মীদেরকে যদি আলিশান গাড়ী বাড়ির মালিক গৃহকর্তারা একটু মানবিক বিবেচনায় সাহায্য করার পাশাপাশি তাদেরকে বাসাবাড়িতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসায় কাজ করার সুযোগ দিতো তাহলে তারা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় ত্রাণ খোঁজতে বাইর হতোনা। তাই বুয়ার বিষয় বিবেচনা প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় তাদের থাকা খাওয়ার নিশ্চিয়তার পাশাপাশি তাঁদের বাসা ভাড়া এবং বিদ্যুৎ বিলের একটি অংশ সরকার যদি সহযোগীতা করে তাহলে এই বুয়ারা কোনও ভাবে টিকে থাকবে। যদিও বা প্রতিটি এলাকায় বিত্তবান ও প্রশাসন এবং সরকারের পক্ষ হতে ত্রাণ সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে নগন্য আবার কিছু কিছু এলকায় দেখা যায় তাদের আইডি কার্ড বা এলকায় ভোটার তালিকায় নামনা থাকাসহ বহুবিদ কারণে তারা ত্রাণ পাওয়া হতে বঞ্চিত হচ্ছে । সব জায়গায় প্রশাসন যেমন খোঁজ নিতে পারেনা। অন্যদিকে এই বুয়ারা তা তাদের ত্রাণ বঞ্চিত হওয়ার কথা যথা সময় যথা স্থানে সঠিক মানুষের কাছে বলতে পারেনা। বুয়াদের বিষয়ে সুনজর দেওয়া আজকে সময় এসেছে। তাদের সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ তাদের কর্মে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা ।
চলবে….।