চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন স্মরণে নাগরিক ফোরামের ভার্চুয়াল স্মরণসভা

0 ৯১

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পুরোধা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণ-সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব এস. এম জামাল উদ্দিনের ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত (১৭ জুলাই) চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের উদোগে এক ভার্চুয়াল স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান এবং মরহুম এস. এম জামাল উদ্দিনেরই তৎকালিন সহযোদ্ধা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণ-সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তন ছাত্র নেতা ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন।

এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ সাবিহা মুছা, মরহুম এস. এম জামাল উদ্দিনের স্ত্রী সুরাইয়া জামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব দিদারুল আলম চৌধুরী, বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণ-সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়কারী শাহরিয়ার খালেদ, রাশেদ মনোয়ার, কাজী গোলাপ রহমান, কামরুল ইসলাম, তসলিম খাঁ, ইমতিয়াজ শাওন, এজিএম জাহাঙ্গীর, কানিজ ফাতিমা লিমা, মরহুমার কন্যা ডা. নাহিদা খানম, সাদিয়া খানম, ডা. সাঈদ আহমেদ, জাহিদ হোসেন ও সংগঠক আশরাফুল ইসলাম প্রমূখ।

বক্তারা বানিজ্যিক রাজধানী তথা জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পুরোধা এবং ঐ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী প্রথম সংগঠন বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণ-সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এস. এম জামাল উদ্দিনের চট্টগ্রাম উন্নয়নের অবদান অনস্বীকার্য । বক্তারা বলেন, আজ চট্টগ্রাম উন্নয়ন শব্দটি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন একটি রাজনৈতিক নির্বাচনের ম্যানোফেষ্টোতে সবাই ব্যবহার করেন। কারণ এটিকে জনপ্রিয় করে গেছেন মরহুম এস এম জামাল উদ্দিন সাহেব এবং তাঁর সহযোদ্ধারা।

বক্তারা বলেন, মরহুম এস এম জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে উন্নয়ন আন্দোলন ঐক্যবদ্ধভাবে চট্টগ্রামবাসী করেছেন এবং এর ফলশ্রুতিতে চট্টগ্রামের উন্নয়নের অনেক কর্মকান্ড- বিগত সরকার গুলো করেছে। যার ফসল চট্টগ্রামবাসী ভোগ করছে। বলা চলে এই উন্নয়ন আন্দোলন চলার কারণেই চট্টগ্রাম শতবছর এগিয়ে গেছে। তা না হলে, চট্টগ্রামবাসী নিশ্চুপ থাকত। সংগ্রাম কমিটির মাধ্যমে এস এম জামাল উদ্দিন যদি নেতৃত্ব না দিতেন তাহলে আজ চট্টগ্রাম হয়ত আগের মতোই অবহেলিত থাকত, চট্টগ্রামে উন্নয়ন বলে কিছু থাকত না।

বক্তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মরহুম এস এম জামাল উদ্দিন সাহেবের মৃত্যুর পর তৎকালিন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সাহেব তাঁর স্বরণ সভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, মরহুমের নামে তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে একটি সড়কের নামকরণ করা হবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বক্তারা এ ব্যাপারে বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মরহুম এস এম জামাল উদ্দিনের মতো নিষ্ঠাবান, ত্যাগী নেতাদের স্মৃতি যদি ধরে রাখতে না পারি ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে না পারি তাহলে এটা চট্টগ্রামের প্রতি এবং মুক্তিযোদ্ধের চেতনার প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ মরহুম এস এম জামাল উদ্দিন শুধু চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের নেতা ছিলেন না তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিআরবি এলাকায় যে কোন ধরণের প্রাইভেট প্রকল্প হাসপাতালের নামে বাস্তবায়নের চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান।এবং এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদানের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


error: Content is protected !!