চেক প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে দিশাহারা জুবায়ের

কর্তৃক porosh
০ কমেন্ট 150 ভিউস

বিশেষ প্রতিবেদক:

চেক প্রতারণার ফাঁদে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মোঃ জুবায়ের গাজী। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিসে জুবায়ের গাজী নির্দোষ প্রমাণিত হলেও চেককে পুজি করে মামলা, হুমকিসহ নানাবিধ প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয় জুবায়ের। পুলিশ সুপার বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা শাখায় প্রেরণ করেন। শুক্রবার(৩ মার্চ) বিকালে জেলা গোয়েন্দা শাখার সেকেন্ড অফিসার বিষয়টি মীমাংসা চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

ভুক্তভোগী মোঃ জুবায়ের গাজী(২৬) সে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ঘোনা গ্রামের মোঃ লুৎফার গাজীর ছেলে। এদিকে, প্রতারক চক্রের মূল হোতা একই গ্রামের শাহাবুদ্দীন গাজীর ছেলে আনোয়ার লাভলু গাজী(৪৫), একই গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন গাজীর ছেলে তরিকুল ইসলাম(৩২), মৃত শামছুল উদ্দীন গাজী ছেলে মোঃ আফাজ গাজী(৬৫)।

ভুক্তভোগী জুবায়ের গাজী জানান, ব্র্যাক এনজিও থেকে দুই লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে দেওয়ার কথা বলে আনোয়ার লাভলু গাজী জুবায়েরের নিকট থেকে দুইটি ব্লাঙ্ক চেক গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নানা ধরনের তালবাহানা দেখিয়ে ঋণ হবে না বলে জানায়। সে সময় দুইটি ব্লাঙ্ক চেক ফেরত চাইলে পরে দিবে বলে জানিয়ে ওয়াদা করতে থাকে। এরপর আফাজ গাজীকে বাদী করে ১০ লাখ টাকার একটি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে জুবায়ের এর বিরুদ্ধে । নোটিশের বরাত দিয়ে জানতে পারে, লাভলুর কাছে দেওয়া দুইটি চেক আফাজ গাজীকে দিয়েছে। আফাজ গাজী দুই চেকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট দশ লাখ টাকা বসিয়ে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। একই সাথে মামলা সহ নানাবিধ ভয় দেখিয়ে দশ লাখ টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু বাস্তবে আমি তাদের থেকে এক টাকাও নেইনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বসাবসি করে সকলে বুঝতে পারে পুরো বিষয়টা প্রতারক চক্রে সাজানো। বিষয়টি হয়রানি করা হচ্ছে এই মর্মে লিখিত সালিশ নামা দেয় স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এরপর আমার বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে তাই হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের বরাবর অভিযোগ জানায়। বিষয়টি গোয়েন্দা শাখাতে প্রেরণ করা হয়। শুক্রবার বিকালে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা শাখায় বসাবসী করেও কোন সুরাহ্ হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এজাহার আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে ঘরোয়াভাবে বসবাসি করা হয় সেখানে এলাকার ময়মুরুব্বী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সকলে বুঝতে পারেন জুবায়ের কে হয়রানি করা হচ্ছে। ব্রাক থেকে ২ লাখ টাকা লোন তুলে দেওয়ার কথা বলে তার থেকে দুইটি ব্লাঙ্ক চেক গ্রহণ করেন লাভলু। পরবর্তীতে লোন না দিয়ে জুবায়েরকে ১০ লাখ টাকার ফাঁদে ফেলেছে। তবে বাস্তবে জুবায়ের তাদের নিটক থেকে এক টাকাও নেয়নি। জুবায়েরকে হয়রানি করছে এই প্রতারক চক্র।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার লাভলু গাজী জানান, জুবায়েরকে ৪ লাখ টাকা দিয়েছে সেটার সুদে-আসলে ছয় লাখ টাকা হয়েছে। ৬ লাখ টাকার এক পয়সা কম নিয়ে বিষয়টি সমাধান করবে না।

এভাবে কতজনকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে ও তাদের সুদের ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

এদিকে ঘটনার উদঘাটন করতে যেয়ে বেরিয়ে এসেছে নতুন এক তথ্য। অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ওই এলাকার খেটে খাওয়া জনসাধারণ। তরিকুল ইতোপ‚র্বে বিভিন্ন ব্যক্তিকে একইভাবে হয়রানি করেছে। কখনো বা অর্থ মন্ত্রণালয় আবার কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করে আসছে । এ সমস্ত বিষয়ে তরিকুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কোন সদুত্তর না দিয়ে রাগান্বিত হয়ে হয়ে স্থান ত্যাগ করেন। সে নিজে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও তথ্যের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ওই এলাকার সোহাগ খাঁন জানান, কিছুদিন আগে সে তার ব্যক্তিগত একটি স্যালো মেশিন বিক্রি করেন। এই বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে তরিকুল। নিজে পর্দার আঢ়ালে থেকে অন্য লোক দ্বারা হয়রানি করে তাকে। সরকারি মেশিন বিক্রি করা হয়েছে এই মর্মে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ওসি সহ সরকারি অনেক দপ্তরে অভিযোগ দেয়। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে যেয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন তিনি।
শুধু একজনের সাথে নয় এই প্রতারক চক্র অনেক নিঃস্ব করে পথে বসিয়েছে। এলাকায় সুদের ব্যবসার মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। সব সময়ই নিজেকে গোপন রেখে এলাকায় নানা ভাবে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে মন্ত্রণালয় পরিচয়ধারী তরিকুল ইসলাম।

এ বিষয়ে এ্যাড. ছকিল গাজী জানান, জুবায়ের নামের ছেলেটি নির্দোষ তাকে লোন তুলে দেওয়ার কথা বলে লাভলু গাজী চেক গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তাকে এই প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে। এই প্রতারক চক্র একইভাবে অনেক ব্যক্তিকে নিঃস্ব করেছে। এলাকায় তাদের সুদের ব্যবসা রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির সেকেন্ড অফিসার ইন্দ্রজিত মল্লিক জানান, লাভলু গাজীর দাবি তিনি জুবায়েরকে ৪ লাখ টাকা দিয়েছে সেটার সুদ সহ ৬ লাখ টাকা হয়েছে। অপরদিকে জুবায়ের গাজীর বক্তব্যনুযায়ী ব্রাক এনজিও থেকে লোন তুলে দেওয়ার কথা বলে লাভলু গাজী দুইটি ব্লাঙ্ক চেক গ্রহণ করে। উভয় পক্ষের কথায় অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি মধ্যস্থা করার জন্য আনোয়ার লাভলু গাজীকে এক লাখ টাকা দিতে চাইলে তিনি বলেন তাকে পুরো টাকা দিতে হবে তাছাড়া বিষয়টি সমাধান হবে না। পরবর্তীতে বিষয়টি অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।



রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!