জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি হামলা করে দাবিয়ে রাখা যায় না- ফখরুল

কর্তৃক Ayub hossaen Rana
০ কমেন্ট 89 ভিউস

মেহেদী হাসান, খুলনা থেকে: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগমী ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে শেখ হাসিনার সরকার নতুন পাঁয়তারা শুরু করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের চিহ্ন থাকবে না।

শনিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা নগরীর ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে আয়োজিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আপনারা (বিএনপি নেতাকর্মীরা) অসাধ্যকে সাধন করেছেন। তিন দিন ধরে জল-স্থল সবখানে গণপরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। গত দুদিন ধরে লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও কি সরকার এই জনসমাবেশকে বাধা দিতে পেরেছে। ইতিহাস বলে, জনগণের ন্যায়সঙ্গত যে দাবি, তা হামলা করে দাবিয়ে রাখা যায় না।

এ সময় তিনি আরও বলেন, তারা জোর করে ক্ষামতায় থাকতে চায়। তারা জানগণকে বঞ্চিত করে বিনা ভোটে ক্ষামতায় টিকে থাকতে চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না। আর সে জন্য এই সরকারকে, শেখ হাসিনাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।

পুলিশের গুলিতে নিহত নেতাদের স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গুলির সামনে, বন্দুকের সামনে বুক পেতে দিয়েছে। কারণ তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র দেখতে চায়।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষতি করেছেন, এই সরকারকে পরাজিত করে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই আন্দোলন ছাড়া আমাদের সামনে কোন বিকল্প নেই। সরকারকে আহ্বান জানাই, পদত্যাগ করুন নাহলে গণঅভ্যুত্থানে এ সরকারকে বিদায় জানানো হবে। দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে চাই। ফয়সালা হবে রাজপথে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের চিহ্ন থাকবে না ১০টার বেশি আসন পাবে না। এখনও সময় আছে সেইফ এক্সিট নেন। পালাবার পথে খুঁজে পাবেন না।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এই সরকারকে পরাজিত করে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই আন্দোলন ছাড়া আমাদের সামনে কোন বিকল্প নেই। সরকারকে আহ্বান জানাই, পদত্যাগ করুন নাহলে গণঅভ্যুত্থানে এ সরকারকে বিদায় জানানো হবে। দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে চাই। ফয়সালা হবে রাজপথে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের চিহ্ন থাকবে না ১০টার বেশি আসন পাবে না। এখনও সময় আছে সেইফ এক্সিট নেন। পালাবার পথে খুঁজে পাবেন না।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। ক্ষমতায় এসে বিচারপতি খায়রুল হককে দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করে চিরস্থায়ী ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত করেছে। আমাদের সকল গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিন। অন্যথায় পালাবার পথ পাবেন না।

বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, ভয়াবহ নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আপনাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কষ্ট করে আজকে আপনারা এই সমাবশে এসেছেন। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

আগের রাতেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে সমাবেশস্থলে জড়ো হন নেতাকর্মীরা। এছাড়া আশপাশের জেলা থেকে আসা বেশ কিছু নেতাকর্মী অবস্থান নেন দলীয় কার্যালয়ের সামনে। খুলনা শহরে বিভিন্ন প্রবেশমুখে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীরা। প্রবেশপথগুলোতে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছেন তারা। যারাই খুলনায় প্রবেশ করছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এসএম শফিকুল আলম মনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও এড, নিতাই রায় চৌধুরী।

এদিকে খুলনা রেলস্টেশনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কিছু জানালার কাঁচ। এছাড়াও বৈকালী এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আগুন দেয়া হয়েছে ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে। এখানে আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকার, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মী হত্যা, হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গণসমাবেশের অংশ হিসেবে খুলনায় বিএনপি এ বিভাগীয় সমাবেশ।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!