জনগনের পাশে থেকে ভালবাসার চেয়ারম্যান হতে চাই

0 ২৬৯

একান্ত সাক্ষাৎকারে চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বাবু

আহাদুর রহমান: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ৩৩ হাজার মানুষের লাবসা। এ ইউনিয়নে আছে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, টেক্সটাইল মিল, বিডিআর ক্যাম্প, যুব উন্নয়ন ভবন, পরমানু গবেষণা ইন্সটিটিউট, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, টিটিসি, বাইপাস সড়কসহ বিভিন্ন বে-সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইউনিয়টিতে যেমন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেশি, তেমনি চাকুরীজীবীদের সংখ্যাও কম নয়। এটি একটি মডেল ইউনিয়ন হওয়ার মত হলেও দীর্ঘদিন হয়নি। এ ছাড়াও ইউনিয়নের কিছু অঞ্চল বর্ষমৌসুমে পানিতে নিমজ্জিত থাকে। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হওয়ায় এখানকার কৃষক ও মৎস খামারীরা বর্ষ মৌসুমে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়গুলো নিয়ে আজ সাতনদীর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে আসন্ন ১৩নং লাবসা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান মনোনয়ন পদপ্রার্থী সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ গোলাম কিবরিয়া বাবু।
আপনিতো ১৩নং লাবসা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। কোন চিন্তাধারা থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন?
আমি ১৩নং লাবসা ইউনিয়নের নলকুড়া, থানাঘাটা ৬নং ওয়ার্ডে বিগত নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে প্রতিদন্দিতা করি। বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করি। ৬নং ওয়ার্ডে ২৪০০ ভোট গ্রহন হয়েছিল। তার মধ্যে আমি সাড়ে পনের’শ ভোট পেয়েছি। নির্বাচন পরবর্তী পরিষদের প্রথম সভায় ১১ ভোটের মাধ্যমে আমি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। লাবসা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বিভিন্ন নাশকতা মামলায় পলাতক থাকার কারণে আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছি। সেই সূত্রে সরকারি যেসব উন্নয়ন কাজ ইউনিয়নে আসে সেসব কাগজপত্র ঘাঁটতে যেয়ে দেখি লাবসার বিনেরপোতার মাছ বাজারে ৪৯লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প এসেছিল। সেই প্রকল্পে একটি টাকার কাজ করা হয়নি। আমি জানতে পারার পর মিটিংয়ের মাধ্যমে সকল মেম্বারদের জানাই। তখন জানতে পারি এ সম্পর্কে কেউ কিছু জানেনা। কিন্তু এই টাকা গেল কোথায়। সম্পূর্ণ ভ‚য়া কাজ দেখিয়ে ও মেম্বারদের অন্ধকারে রেখে এ প্রকল্পের সমুদয় টাকা চেয়ারম্যান আলিম আত্মস্বাত করে। তারপর আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে অবহিত করি। ৯নং ওয়ার্ডের তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি বধিত সভায় হয়। সে সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবুকে দুর্নীতির বিষয়টি অবহিত করি। এছাড়াও সদর এমপি মহোদয় ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকেও এ বিষয়টি জানাই। এছাড়াও লাবসা ইউনিয়নে কার্ড বাণিজ্য হয়েছে। যেমন শিশুকার্ড, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা, গর্ভবতী ভাতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কার্ড বেচাকেনা হয়েছে। ৩৩ হাজার মানুষের চেয়ারম্যান এসব দুর্নীতির বিষয়গুলো দেখেও প্রতিবাদ করেননা। এমনকি নিজেও এই দুর্নীতির সাথে জড়িত আছেন। তখন আমি ভেবে দেখলাম লাবসা ইউনিয়নের এ ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে গেলে এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রয়োজন। তাই মূলত আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক প্রার্থী।
বিগত তিন যুগেও লাবসা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী জয়ী হতে পারেনি কেন?
বিগত নির্বাচনে লাবসা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থীই তিন হাজার ভোটও পাননি। ব্যার্থতা দলেন নয়, ব্যার্থতা ব্যক্তির। এ ইউনিয়নে শক্ত অবস্থানে থাকতে গেলে কমপক্ষে পনের হাজার ভোট পেতে হবে। একজন যোগ্য প্রার্থী হলে লাবসা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানের জয় করা কোন কষ্টকর বিষয় নয়। যারা ইতোমধ্যে প্রার্থী হয়েছেন তারা ঠিক নির্বাচনের সময় প্রার্থী হয়। ইউনিয়নের কোথায় মানুষ কষ্টে আছে সে খবর নেন না। সারা বছর মাঠে কাজ করেননা। আমার প্রতি যদি মানুষের ভালবাসা না থাকে তাহলে এ ইউনিয়ন থেকে জয় লাভ করা সম্ভব নয়।
লাবসা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হতে গেলে কী কী করা প্রয়োজন?
লাবসা ইউনিয়নে নৌকা জয়ী হতে গেলে এখানে সৎ, নির্ভীক ও বন্ধুসুলভ ব্যাক্তির প্রয়োজন। যে শুধু নির্বাচনের সময়ই নয়, নির্বাচনের আগে পরে সবার খোঁজ নিবে। জনগনের কাছে আসবে। সেই সাথে জনগনকেও বুঝতে হবে নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার দলীয় চেয়ারম্যান দরকার। তাছাড়াও দলীয় যে প্রার্থী নির্বাচিত করা হয় সে প্রার্থীর এই ইউনিয়নে গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।
লাবসা ইউনিয়নে কোন কোন উন্নয়ন হয়নি বলে আপনি মনে করেন?
সরকারের উন্নয়ন লাবসা ইউনিয়নে এসেছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে যে উন্নয়নটা দরকার সেটি এখনও হয়নি। শুধুমাত্র সদর এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয় যে উন্নয়নগুলো নিয়ে আসছেন সেগুলোই লাবসা ইউনিয়নে দৃশ্যমান। কিন্তু ইউনিয়ন কেন্দ্রীক কোন উন্নয়ন হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ সম্পূর্ণ ব্যার্থ। আমি পরিষদের সদস্য। তাই নিজেকেও দায়ী মনে করি। আমি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় এই দুই বছরে একটি মাসিক সভায়ও পরিষদের সভার কোন চিঠি আমি এখনও পাইনি। কারণ আমি সভায় গেলে তার দুর্নীতির ব্যাপারে তুরে ধরবো।
লাবসা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড রাজনগরের প্রতিটা রাস্তায় জলাবদ্ধতা। প্রতিটি রাস্তার ইট নাই। নতুন কোন কাজ নেই। প্রতিটা রাস্তা দেখিয়ে বছরের পর বছর ভ‚য়া প্রকল্প দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। খেজুরডাঙ্গী, খেলারডাঙ্গী, বিনেরপোতা, দেবনগর অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে জনগন পানিবন্দি থাকে। ইতোমধ্যে আপনারা জানেন প্রাণসায়ের খাল খননের জন্য সাতক্ষীরা পাকাপোল এলাকায় একটি ভেড়ি বাঁধ দেওয়া হয়। এসময় পানি সরার জায়গা না থাকায় খেজুরডাঙ্গী, খেলারডাঙ্গী, বিনেরপোতা, দেবনগর, কৈখালীর কিছু অঞ্চল প্লাবিত হয়। সে সময় ক্ষেতের ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছিল। জেলা নাগরিক মঞ্চ, জেলার সিনিয়র সাংবাদিক ও বিভিন্ন এনজিও সংগঠনকে সাথে নিয়ে আমি লাবসা ইউনিয়নের প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করি। তারপর জেলা প্রশাসক মহোদয় ও ইউএনও মহোদয় সরেজমিনে এসে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরে পানি সরার জন্য পনের দিনের জন্য প্রাণসায়েরের বাধ খুলে দেন। তারপর অবস্থা স্থিতিশীল হয়।
আপনি চেয়ারম্যান হলে প্রথমে কোন উন্নয়টি করবেন?
আমাদের ইউনিয়নে মানুষের শেষ ঠিকানা একটি কবরস্থান ও কেন্দ্রীয় শ্মশান নেই। আমি যদি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই তাহলে সবার প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের তত্বাবধানে কবরস্থানের ও কন্দ্রীয় শ্মশানের ব্যাবস্থা করব। ৩৩ হাজার গনমানুষের এই ইউনিয়নে মা-বোনদের গর্ভকালীন জটিলতায় ও বিভিন্ন রোগে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ছয় মাসের মধ্যে একটি এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করব। ১৯ট গ্রামের মধ্যে প্রায় ১০টা গ্রাম বর্ষা মৌসুমে বন্যায় প্লাবিত হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য মিল বাজার থেকে বিনেরপোতা বেতনা হয়ে কাটা খাল পর্যন্ত রাস্তা ধার দিয়ে ড্রেনের ব্যবস্থা করব। মথুরাপুর হয়ে দেবনগর কাটাখাল পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য আরও একটি ড্রেনের ব্যবস্থা করব।
যদি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পান। সেক্ষেত্রে কী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন?
অবশ্যই না। দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকে মনোনয়ন দিবে। আমরা আওয়ামী লীগের কর্মী। দল আগে। যে লাবসা ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী মনোনিত হবে আমরা তার সাথেই পূর্ণ সমর্থন দিয়ে কাজ করে যাব।