দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : ডেঙ্গু’র ঝুঁকিতে মশারী বিহীন থাকতে হচ্ছে রোগীদের

কর্তৃক Ahadur Rahman Jony
০ কমেন্ট 18 ভিউস

দেবহাটা ব্যুরো: দেশব্যাপী স্বাস্থ্যখাতে বর্তমান সরকারের শাসনামলে অভুতপুর্ব উন্নয়ন সাধিত হলেও কেবলমাত্র দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও হাসপাতাল কতৃপক্ষের উদাসীনতায় জনভোগান্তির অপর নামে পরিনত হয়েছে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে সরকারী হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে সরকারের প্রতি বিরুপ মনোভাব পোষন সহ আস্থা হারাচ্ছেন দুর-দুরান্ত থেকে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা। একে তো তীব্র ডাক্তার সংকট, তার ওপর দায়িত্বরতদের উদাসীনতার কারনে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি আর বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের। এমনকি দেশজুড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক তীব্র আকার ধারন করলেও, মশারী বিহীন ডেঙ্গু’র ঝুকি নিয়ে হাসপাতালে থাকছেন রোগীরা। দু’এক দিন নয় দীর্ঘ পনেরো মাস হাসপাতালে মশারী পাননা রোগীরা। সন্ধ্যার পর সরকারী এ হাসপাতালের দেয়ালে দেয়ালে দেখা মিলছে দলবদ্ধ মশাদের সমাবেশে মিলিত হওয়ার দৃশ্য। শুধু তাই নয়, মশার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে মশার কয়েল কিনে ব্যবহার করছেন রোগীদের ওয়ার্ডে। ফলে মশার কয়েলের বিষাক্ত ধোয়ায় আবার সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শ্বাসকষ্ট সহ এধরনের রোগে আক্রান্তরা। যখন ডেঙ্গু থেকে বাচতে মানুষ হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের উপর নির্ভরশীল, ঠিক তখন খোদ সরকারী হাসপাতালে টানা পনেরো মাস রোগীদের মশারী না দেয়ার বিষয়টি শুধু রোগীদের নয় বরং সচেতন মহলেরও উদ্বেগের বিষয়ে পরিনত হয়েছে। এব্যপারে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধায়ক (টিএইচএ) ডাঃ আব্দুল লতিফ বলেন, রোগীরা মশারী চাইলে দেয়া হবে, কেউ মশারী চাননা বলে দেয়া হয়না। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী মশা নিধনের ব্যাপক তোড়জোড় চললেও দেবহাটাতে মশক নিধন অভিযান কেবলমাত্র ফটোসেশনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঢাকঢোল পিটিয়ে মশা নিধনের নামে লিফলেট বিতরন ও সচেতনতা মুলোক র‌্যালী হচ্ছে নামমাত্র। সবকিছুই যেন শুধু ফটোসেশনের জন্য। একটি মশা নিরোধের ব্যানার হাতে নিয়ে কয়েকজন মিলে মিনিট খানেক দাড়িয়ে একটি ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করে দেখানো হচ্ছে ব্যাপক মশক নিধনের আয়োজন। মাঝে মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের একটি গাড়ীতে একটি মাত্র মশা মারা যন্ত্র নিয়ে মশক নিরোধের ব্যানার সহ কেবলমাত্র উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা ভবন আর দু’একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে নামমাত্র ধোয়া দিয়ে ফটোসেশন করা হচ্ছে। দেবহাটা উপজেলা বাসীর প্রশ্ন- মশা কি শুধু এসব সরকারী প্রতিষ্ঠানের সামনে? নাকি সবকিছুই লোক দেখানো ফটোসেশন মাত্র?

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!