দ্বন্দ্বে জর্জরিত সাতক্ষীরা বিএনপি: কর্মকান্ড নেই, আছে গ্রুপিং

কর্তৃক Ahadur Rahman Jony
০ কমেন্ট 25 ভিউস
আকরামুল ইসলাম : অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি। দলীয় কর্মকান্ড নেই সাতক্ষীরায়, আছে গ্রুপিং। বিএনপির দুই নেতায় বিভক্ত সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি। একদিকে, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ ইফতেকারের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি গ্রুপ। গ্রুপিংয়ের কারণে সাতক্ষীরায় স্থবির হয়ে পড়েছে বৃহত্তম এ রাজনৈতিক দলের কর্মকা-। দলের ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীও পৃথক পৃথকভাবে উৎযাপন। এসব কর্মকান্ডে ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে।
জেলা বিএনপির সাবেক দুই শীর্ষ নেতার গ্রুপিংয়ের তোপে বিভক্ত দল। সাবেক দুই নেতার অনুসারি বর্তমান কমিটির নেতারাও। সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে চলেন একটি গ্রুপ। সে গ্রুপে রয়েছে বর্তমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসানসহ বিএনপি নেতা নান্টা, মাসুম বিল্লাহ শাহিন, ভুট্টো, হাসান হাদি, তাইজুল ইসলাম রিপনসহ আরও অনেকে।
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ ইফতেকারের গ্রুপে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি রহমত উল্লাহ পলাশ, বিএনপি নেতা মোদাসেরুল হক হুদা, চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম, বিএনপি নেতা শের আলী, ডাবলু, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকিন আহম্মেদ চিশতি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মানিক, আলীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি মুকুলসহ নেতারা।
সাতনদীকে এসব তথ্য জানান জেলা বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী এক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নেতা আরও জানান, দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে এক কথায় দল ক্ষতিগ্রস্থ। দলীয় কোন কর্মকান্ড নেই সাতক্ষীরায় রয়েছে তিব্র গ্রুপিং। দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপনও করা হচ্ছে পৃথক পৃথক ভাবে। এসবের কারণে বিভান্ত হয়ে পড়েছেন তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা। একদিকে, দলের নেতাকর্মীদের নামে সরকারের দেওয়া রাজনৈতিক মামলা অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং। এসবের ফলে পিছিয়ে পড়ছে বৃহত্তম এ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলটি। নেতাকর্মীরা চাই এসবের অবসান হোক।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমীতে কর্মী সমাবেশে হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও ইফতেকারের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় ইফতেকারের নেতৃত্বে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠণের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নেতাকর্মীরা। একদিকে, নেতাকর্মীদের নামে সরকারের দেওয়া রাজনৈতিক মামলা অন্যদিকে, অভীন্তরীণ দ্বদ্বের কারণে মামলা। দলের বর্তমান সভাপতি রহমত উল্লাহ পলাশ তিনি ঢাকাতে অবস্থান করেন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব তিনিও থাকেন ঢাকাতে। সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকিন আহম্মেদ চিশতি ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচিত হয়েও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে গেছেন। দলের কোন কর্মকান্ডে তিনি কখনোই সম্পক্ত থাকেন না। তিন মাস আগে একটি আহবায়ক কমিটি হলেও আজও সেটি কেন্দ্র  থেকে অনুমোদন হয়নি।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও অনুমোদিত না হওয়া কমিটির কমিটির যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ ইফতেকার জানান, সাংগঠনিক কর্মকান্ড বা দলীয় কোন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন না থাকায় ব্যার্থতার দায়ে জেলা বিএনপির রহমত উল্লাহ পলাশ ও তারিকুল হাসান কমিটিকে বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। কেন্দ্র থেকে একটি সাংগঠনিক টিম সাতক্ষীরায় এসে নেতাকর্মীদের কাছে শুনানী করে কমিটি বিলুপ্ত করেন। একই সঙ্গে রহমত উল্লাহ পলাশকে আহবায়ক ও ফারুক হোসেন, ইফতেকার, আলীম, রউফ ও তারিকুলকে যুগ্ম আহবায়ক করে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠণ করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠণিক টিম। যা কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেন। তিন মাস আগে হলেও সে কমিটি এখনো অনুমোদন হয়নি। দলের গ্রুপিংয়ের বিষয়ে কিছু বলতে চাননি বিএনপির এই নেতা।
তবে গ্রুপিংয়ের বিষয়ে জেলা বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ বলেন, বৃহৎ দলে গ্রুপিং থাকবে। তবে দলীয় কর্মকান্ডে প্রাধান্য দিয়ে তিনি বলেন, সংগঠণের জন্য কাজ করতে হবে।
এদিকে, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন করা হয়। জেলা বিএনপির এ নেতা বলেন, যারা রাজপথে থাকে তারাই প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করছে। সভাপতি রহমত উল্লাহ্ পলাশ তিনি ঢাকাতে অবস্থান করেন। কেউ তাকে সাতক্ষীরায় এনে পৃথকভাবে আরেকটি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করছে বলে শুনেছি। তবে সেখানে নেতাকর্মীদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
দলীয় গ্রুপিং ও সাংগঠনিক কর্মকান্ডে বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি রহমত উল্লাহ পলাশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপনে বিএনপির দু’টি পক্ষ অনুমতির জন্য আবেদন করেছে জানিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি পক্ষ পুলিশ সুপার বরবার আবেদন করেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি রহমত উল্লাহ্ পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান পৃথক পৃথক এ আবেদন করেন। সভাপতি রহমত উল্লাহ্ পলাশের আবেদনে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে কাটিয়া নিরিবিলি কমিউনিটি সেন্টারে অন্যদিকে, সম্পাদক তারিকুল হাসানের নেতৃত্বে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে।
তবে সাতক্ষীরায় বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন পৃথক পৃথক ভাবে পালন করা ঠিক হয়নি জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, আমার বাড়ি সাতক্ষীরায়। কেন্দ্রের রাজনীতি নিয়েই আমি ব্যস্ত। জেলার রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগটি সঠিক নয়। এছাড়া বিএনপির যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে সাতক্ষীরায় সেটিও দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে আশাকরি।
তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী কারাগারে রয়েছে, তারেক রহমান দেশে আসতে পারছে না। আমাদের প্রত্যাশা এখন নেত্রীর মুক্তি ও তারেক রহমানের দেশে ফিরিয়ে আনা। দলের এখন সংকট কালীন মুহূর্ত এ সময়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে দলের জন্য কাজ করতে হবে।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!