বিশ্বে মৃত্যু ৩ লাখ ছাড়াল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৬ হাজার

0 ৭২

বিশ্বব্যাপী প্রতিনিয়ত মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে তিন লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ। এ ছাড়া, সুস্থও হয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ।

গত ১১ জানুয়ারিতে করোনায় প্রথম মৃত্যু হয়েছিল। করোনায় মৃত্যুর তথ্য বলছে, ১১ জানুয়ারি প্রথম মৃত্যুর পর ২ এপ্রিল ৫০ হাজার ছাড়ায় করোনায় মুত্যু। এরপর ১০ এপ্রিল এটি এক লাখ, ১৭ এপ্রিল দেড় লাখ, ২৬ এপ্রিল দুই লাখ ও ৫ মে আড়াই লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর এর ১০ দিন পর ১৫ মে এসে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২ হাজার ৪৫২ জনে।

আজ শুক্রবার জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে।

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৯৭ জন এবং মারা গেছেন ৩ লাখ ২ হাজার ৪৫২ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৩ জন।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৭৭৭ জন এবং মারা গেছেন ৮৫ হাজার ৮৯৮ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৪ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রয়েছে রাশিয়ায়। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৫ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ৩০৫ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৩০ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৬৯৩ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪০ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৩ জন।

এ ছাড়া, ইউরোপের দেশ স্পেনে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৪০ জন, মারা গেছেন ২৭ হাজার ৩২১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৪ জন। ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৬ জন, মারা গেছেন ৩১ হাজার ৩৬৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২৮৮ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৪ জন, মারা গেছেন ২৭ হাজার ৪২৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫৯ হাজার ৭১৯ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭৮ জন, মারা গেছেন ৭ হাজার ৮৮৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ জন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৩ জন, মারা গেছেন ৬ হাজার ৮৫৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯০ হাজার ৫৩৯ জন। তুরস্কে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৪৯ জন, মারা গেছেন ৪ হাজার ৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৩০ জন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেও। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ১৬৫ জন, মারা গেছেন ১৩ হাজার ৯৯৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৯ হাজার ৪৭৯ জন।

ভাইরাসটির সংক্রমণস্থল চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ২৯ জন, মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৯ হাজার ২৬১ জন।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৮ হাজার ৮৬৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন ২৮৩ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৬১ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, আগের দুই করোনাভাইরাস সার্স ও মার্সের তুলনায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের দিক থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।

ডব্লিউএইচও’র হিসাব অনুযায়ী, ২০০৩ সালে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকুইটি রেসপিরেটরি সিনড্রোম) করোনাভাইরাসে মারা যান ৭৭৪ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮ হাজার ৯৮ জন।

অন্যদিকে, ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আরেক করোনাভাইরাস মার্সে (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৪, মারা গেছেন ৮৫৮ জন।