ভারতীয় ফেন্সিডিলে সয়লাব জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল : ধ্বংসের মুখে যুব সমাজ

কর্তৃক Ahadur Rahman Jony
০ কমেন্ট 21 ভিউস

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারো ভারতীয় ফেনসিডিলে সয়লাব হয়ে যাচ্ছ সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চাল। জেলার শহর, গ্রামে অতিগোপনে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় ফেনসিডিল। আর এতে সবচেয়ে বেশি আসক্ত যুবসমাজ। সাতক্ষীরার ২৩৮ কিঃমিঃ ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের বিভিন্ন চোরা পথদিয়ে ভারত থেকে বানের স্রোতের মতো আসছে ফেনসিডিল, মদ গাজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। জেলা জুড়ে গড়ে উঠেছে শত শত শক্তিশালী মাদক চোরাচালান চক্র। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য ভারতের সীমান্ত এলাকায় অবৈধ্য ভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ফেনসিডিল কারখানা। কারখানা গুলোতে রাত-দিন চলছে ফেনসিডিল তৈরির কাজ। আর সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য কৌশলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করছে মাদক চোরাচালান চক্র গুলো। সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির কড়া নজরদারি থাকার পরেও ভারত থেকে মাদকের বড় বড় চালান আসছে চোরাগুপ্তা ভাবে। চোরাচালানির সদরঘাট বলে পরিচিত সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের অলিতে-গলিতে প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে ফেনসিডিল, গাজা, মদ সহ সর্বপ্রকার মাদক। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নেশাগ্রস্তদের সমাগম ঘঠতে দেখা যায় ভোমরা পোর্ট সংলগ্ন লক্ষীদাড়ি, ঘোষপাড়া, গাজিপুর এলাকায়। ভোমরায় ফেনসিডিলের দাম ৬০০ টাকা আর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের পঞ্চাশ গজ ভেতরে দাম ৪০০ টাকা। ভারতে দাম কম থাকায় কৌশলে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মধ্যে যেয়ে মাদক সেবন করে আসছে মাদকাসক্তরা।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র আরো জানিয়েছে ভোমরা সীমান্তের ওপারে ভারত সীমান্তের ভেতরে বসছে মাদকের বাজার। সেখানে দুই শতের বেশি মাদক ব্যবসায়ী প্রতিদিন বস্তা বস্তা ফেনসিডিল, মদ,গাজা বিক্রি করে আসছে বাধাহীন ভাবে। ভোমরা বন্দরের আশপাশের চোরা পথের পাশাপাশি মাদক আসছে বৈধভাবে আমদানিকৃত পন্যের আড়ালে। মাঝে মধ্যে বিজিবি ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ মাদকের দু’একটি চালান আটক করলেও বেশিরভাগ মাদকের চালান পৌছে যায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে।এছাড়া বস্তা-বস্তা ফেনসিডিল সহ সব ধরণের মাদক আসছে শাঁখরা, পদ্ম শাঁখরা, ঘুনা, বৈকারি, কুশখালি, তলুইগাছা, কেড়াগাছি, ভাদলি, ভবানিপুর, বাঁশদাহ, কাকডাঙ্গা, হিজলদী, বসন্তপুর সীমান্ত দিয়ে। এসব এলাকার চিহ্নত মাদক ব্যবসায়ী মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্যরা আতœগোপনে থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনেকের সাথে সম্পর্ক রেখেই চুপিসারে ব্যবসা করে আসছে বলে অখিযোগ রয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, সারা জেলা বিস্তৃত মাদক সিন্ডিকেটের মূল লগ্নিকারী মাদক বস্তুুকে ধরে না । তারা কেবল মধ্যস্থতাকারী লোকের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে। তাই তারা বরাবরই ধরাছোয়ার বাইরে থাকে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থা সমুহের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সাতক্ষীরায় মাদকের এই অবৈধ কারবার চলছে দিনের পর দিন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পুলিশ ও র‌্যাবের ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হওয়ার পরেও মাদক নিয়ন্ত্রন হয়নি এই জেলায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অব্যাহত অভিযান, আটক, মোবাইল কোর্টে সাজা প্রদান, একের পর এক মামলা করেও এখনও রোধ করা সম্ভব হয়নি সর্বনাশা মাদকের বিস্তার।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!