শ্যামনগরে পাউবো বাধে ভাঙন : লাখো মানুষ আতঙ্কে

কর্তৃক Ahadur Rahman Jony
০ কমেন্ট 22 ভিউস

সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর প্রতিনিধি : শ্যামনগর উপজেলায় ৫ নং পোল্ডারের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। তীব্র বেড়িভাধ ভাঙনের কারনে উপকূলীয় এলাকায় লাখো মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মঙ্গলবার রাত ২ টার দিকে চুনা নদীতে হঠাৎ জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চুনার ক্লোজারে ভাঙন শুরু হয়। মহুর্তেই শতাধিক ফুট বাধ নদীতে ধসে পড়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে স্থানীয়রা জানায়। বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, ভাঙন সম্পর্কে পাউবো কর্র্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। পাউবো কর্তৃপক্ষের দায়সারা কর্মকান্ডের কারনে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ বাধ টেকসই ভাবে নির্মিত না হলে যেকোন মহুর্তে বিস্তৃর্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সংশ্লিষ্ট পাউবো সেকশান অফিসার (এসও) শাহানাজ পারভীন ভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ভাঙন কবলিত স্থান বাধা হয়েছে। পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি জানান। এদিকে উপজেলার উপকূলীয় ৯ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছে অস্বাভাবিক জোয়ারের কারনে তাদের প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক স্পটে নদী ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুুদুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নে লেবুবুনিয়া, পার্শ্বেমারী, ডুমুরিয়া, হরিসখালী ও চকবারর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. আতাউর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের ঝাপা, কামালকাটি, পাখিমারা, খুটিকাটা, গড়কুমারপুর ও চন্ডীপুরের অবস্থা খুবই খারাপ। যেকোন সময় প্লাবিত হয়ে মানুষের জান মালের ক্ষতি হতে পারে। কাশিমাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, তাই ইউনিয়নের ঘোলা, ঝাপা, বেড়ালক্ষি ও কুটিকাটার অবস্থা খুবই খারাপ। আটুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নে বড়কুপট, বেড়ালক্ষি ও চুনার বাধে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল জানান, তার ইউনিয়নের পাউবোর বেড়িবাধের দুর্গবাটি, ভামিয়া, পোড়াকাটলা, বুড়িগোয়ালিনী, দাতিনাখালী ও চুনার বাধের একাধিক ¯’ানে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম মোড়ল জানান, তার ইউনিয়নের পূর্ব কালিনগর, দক্ষিন কদমতলা, মথুরাপুর, সিংহড়তালি, চুনকুড়ি, মরাগাং ও টেংড়াখালীতে খুবই খারাপ অবস্থা। সেএলাকায় মানুষের মধ্যে নদী ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্যাহ আল মামুন জানান, গোলাখালি ওটেংড়াখালী পাউবো বেড়িভাধ খুবই নাজুক অবস্থা। কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানিয়য়েছেন তার ইউনিয়নের কৈখালী ফরেস্ট ও বিজিপি ক্যাম্প হতে গোটা কালিন্দী নদীর কিনার দিয়ে পাউবো ভেড়িবাধের ঝুঁকিপূর্ন অবস্থ রয়েছে। যেকোন সময় বাধ ভেঙ্গে জান মালের ব্যপক ক্ষতি সাধন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আসনের এমপি এসএম জগলুল হায়দার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাধ মেরামতের পাউবো কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এছাড়া একটি টেকসই মজবুত উপকূলীয় পাউবোর বেড়িবাধ নির্মানের জন্য সরকার দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!