শ্যামনগরে রিক্রুটিং এজেন্সি আল-নূর ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে মামলায় তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ

কর্তৃক Ahadur Rahman Jony
০ কমেন্ট 57 ভিউস

আব্রাহাম লিংকন: রিক্রুটিং এজেন্সী আল-নূর ইন্টারন্যাশনাল-এর বিরুদ্ধে প্রতারনা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী গ্রামের জিএম আল মামুনের পুত্র আশিকুজ্জামান সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটি তদন্তের জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালত শ্যামনগর উপজেলা যুব উন্নয়নের কর্মকর্তা এসএম আজিজুল হক এর নিকট পাঠান। তদন্তে প্রতিবেদনে বিবাদীর নিকট থেকে মোটা অংকের গোপন উৎকোচ গ্রহণ করে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী আশিকুজ্জামান।
মামলা ও মামলার বাদী সূত্রে জানা যায়, আল-নূর ইন্টান্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সীর প্রধান কার্যালয় ঢাকার ফকিরাপুলের নয়াপল্টনে, ৫২,এস আর গার্ডেন। দেশ-বিদেশে এই প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শাখা অফিস রয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সি মালিক মৃত মোবারক গাজীর পুত্র আবু বক্করের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার দরগাপুর (ভুরুলিয়া) গ্রামে। তিনি গত বছর জানুয়ারী মাসের ১০ তারিখে সেল্সম্যান পদে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোক মুখে প্রচার করে। এই বিষয়ে আশিকুজ্জামানের চাচার আতœীয় হওয়ার ফলে চাচাকে নিয়ে সরল বিশ্বাসে চাকুরি, ভিসা এবং যাবতীয় কাজ সম্পাদন করার জন্য ৬ লাখ টাকা প্রদান করে। এই টাকা জমি বিক্রয় করে শ্যামনগর ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান আবু বক্করকে প্রদান করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী একই বছরের ১৩ এপ্রিল আল-নূর ইন্টারন্যাশনালের ঢাকা অফিস থেকে পাসপোর্ট, ভিসা ও বিমানের টিকিট প্রদান করে। চুক্তির শর্ত মোতাবেক সৌদি আরবের রিয়াদ ইন্টান্যাশনাল বিমান বন্দরে পৌছলে আশিকুজ্জামানকে এই এজেন্সীর পক্ষ থেকে রিসিভ করা হবে বলে জানানো হয়। কর্মস্থলে পৌছে দেওয়া হবে এবং বেতন হবে মাসিক ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু রিয়াদ ইন্টারন্যাশনাল বিমান বন্দরে পৌছালে তাকে রিসিভ করতে আসেনি। উপায় না দেখে পরিচিত লোকজনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাদের কাছে আশ্রয় নেই। দীর্ঘ ৫ মাস পালিয়ে থাকার পরে আশিকুজ্জামানের ওয়ার্ক পারমিট প্রদান করে। কিছু দিন যেতে না যেতে তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে সে জানতে পারে নিয়োগদাতাকে চুক্তি মোতাবেক আল-নূর ইন্টারন্যাশনাল টাকা না দেয়ায় তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে। বাড়ীর আর্থিক বিষয়ে চিন্তা করে বে-আইনী ভাবে কাজ করতে থাকে এবং ওয়ার্কপামিট সংশোধনের জন্য আল-নূর ইন্টারন্যাশনালকে চাপ সৃষ্টি করে। আশিকুজ্জামানের চাচাও তাকে ওয়ার্কপামিট সংশোধনের জন্য বলে। আল-নূর ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবু বক্কার সিদ্দীক হজ্ব যাত্রীদের রুম ভাড়া করতে সৌদিতে গেলে তার সাথে আশিকুজ্জামান ৩/৪জন রুমমেট নিয়ে তার সাথে দেখা করে। আল-নূর ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবু বক্কার সিদ্দীক বিষয়টি সমধান করার আশ্বাস দিয়ে চলে আসে। পরে বে-আইনী ভাবে অবস্থান করার দায়ে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলখানায় পাঠায়। ১০ দিন পর দেশে ফেরত পাঠায়।
দেশে এসে আল-নূর ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবু বক্করের কাছে টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় শালিস করলে ৬ কিস্তিতে টাকা ফেরত দেবার অঙ্গীকার করে ১লাখ টাকা ফেরত দেয়। বাকি ৫লাখ টাকা ফেরত দেবার কথা থাকলেও তালবাহনা শুরু করে। এ নিয়ে কাকরাইল জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষন ব্যুরো বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। বেশ কয়েকটি শুনানির পর শেষ শুনানির দিনে আল-নূর ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবু বক্কর সকল রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকদের নিয়ে আশিকুজ্জামান সহ পরিবারের লোকদের আটক রাখে। পরে পার্শ্ববর্তী ঢাকা মেট্রোপলিটন রমনা থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ বিষয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়। যার নং-১৮৩৩।
পরে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষন ব্যুরো অফিসে আল-নূর ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সীর বিরুদ্ধে বিএমটিতে দাখিলকৃত অভিযোগটি প্রমানিত হয়। কিন্তু ঢাকাতে গেলে প্রাণে মেরে দেবে এমন হুমকিতে কোন উপায় না দেখে সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়।
আশিকুজ্জামান জানান, এত কিছু প্রমান থাকার পরও তদন্ত প্রতিবেদনে বিবাদীর নিকট থেকে মোটা অংকের গোপন উৎকোচ গ্রহণ করে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছে শ্যামনগর উপজেলা যুব উন্নয়নের কর্মকর্তা এসএম আজিজুল হক।
এ বিষয়ে আজিজুল হক জানান, আমি একজন গেজেট অফিসার আমি তদন্তে যেটা মনে করেছি, সেই রিপোর্ট দিয়েছি আমার রিপোর্ট পছন্দ না হলে অন্য জায়গায় তদন্ত নেন।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

error: Content is protected !!