শ্যামনগরে ২২ বছরেও প্রতিবন্ধী ভাতা পেলো না ভূরুলিয়ার তনু

0 ৮৫

আব্রাহাম লিংকন শ্যামনগর থেকে: শ্যামনগরে ২২ বছর ধরেও প্রতিবন্ধী ভাতা পেলো না ভূরুলিয়ার তনু। উপজেলার ভূরুলিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের আবু জাফর বাচ্চুর পুত্র খালিদ মোহাম্মদ তনু (২২) বোবা, কানে শোনে না, হাটতে পারে না, মাথা খারাপ, হাতে তুলে খেতে পারে না, দাড়িয়ে দুই/চার পাও হাটতে পারে না। জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী তবুও প্রতিবন্ধী ভাতা পাই না।

পরিবার সূত্রে জানাগেছে যে, দীর্ঘ বছর ধরে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সমাজ সেবা অফিসে যোগাযোগ করেও কার্ড পাইনি তনু। বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা ফারুক হোসেন, ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ও উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার শহিদুর রহমান তনুকে দেখেছেন। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রাদী নিয়েছেন এমনকি প্রতিবন্ধী কার্ড পাওয়ার আশ^াস দিয়েছেন, তবুও কার্ড পাইনি।

তনুর পিতা আবু জাফর বাচ্চু বলেন, তনুর অধিকারের প্রশ্নে সমাজসেবা অফিসে গিয়ে শুনলাম কেন হল না তনুর কার্ড ? কেন তনু বাদ পড়লো ? তারা বললেন জানিনা। আপনি যান, আপনি যান। একজন প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা তাই অপমান বোঁধ না করে আমি চলে আসি। বিগত অনেক বছর ধরে আমরা তনুর প্রতিবন্ধি সরকারি তালিকায় অর্ন্তভূক্ত চেষ্টা করি। ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের তৎকালীন ইউপি সদস্য এবং সমাজ সেবা অফিস যেখানে যেখানে যেতে বলেছে গিয়েছি। যা যা কাগজপত্র চেয়েছে দিয়েছি। নিজেরা কয়েকবার দেখেছেন কিন্তু পরিপূর্ন প্রতিবন্ধি আওতায় তনু আসলো না। বিগত দুই বছর আগে হাল ছেড়ে দেই। হঠাৎ ২০২০ সালে এসে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য শফির চেষ্টায় প্রতিবন্ধী স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়েছি। এরপর থেকে চলছে বহি পাওয়ার চেষ্টা। দীর্ঘ দিনের চেষ্টায় একজন প্রতিবন্ধি কেন প্রকৃত তালিকায় অন্তরভুক্ত হচ্ছে না ?

তনুর পরিবার প্রতিবন্ধী কার্ডের আশায় অফিসে ঘুরে হয়রানীর শিকার। জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী তনুর ২২ বছর পর স্মার্টকার্ড হাতে পেলেও বহি ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে না।

তবে বিষয়টি নিয়ে ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ আব্দুল হামিদ বলেন, আমার কাছে কোন প্রকার কাগজপত্রাদী আজ পর্যন্ত দেয়নি।

৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সফি বলেন, আমি বিষয়টি জানার পরে, তার পরিবার থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে একটি স্মার্টকার্ড তুলে দিয়েছি। ঈদের পরে এককালীন ১ বছরের বকেয়া অর্থ সহ মোট ৯ হাজার টাকা পাবে এবং ২২শ ৫০ টাকা করে বছরে ৩বার পাবে।

ভুরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা ফারুক হোসেনের মোবাইলে তার স্ত্রী রুমা ফেরদৌসি বলেন, চেয়ারম্যান অস্থ্য ঢাকায় চিকিৎসাধীনে রয়েছেন।

সমাজসেবা অফিসার শেখ শহিদুর রহমন বলেন, চলতি অর্থবছরে তনুকে প্রতিবন্ধী তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করে নেওয়া হয়েছে। তনুর বহি নং-২৮৯৩। বহি অফিসে তৈরি অবস্থায় পড়ে আছে। যে কোন মূহুত্বে তনুর পরিবার বহিটি সংগ্রহ করতে পারবেন।