সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহন আজ

ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

0 ১৬৫

মাসুদুর রহমান মাসুদ : সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহন আজ। চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের অংশ হিসেবে দেশের অন্যান্য কিছু পৌরসভার পাশাপাশি সাতক্ষীরা পৌরসভায় আজ ১৪ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের ৩৭টি ভোট কেন্দ্রের ২শ’ ৪৮টি বুথে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন করা হবে। সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহনের লক্ষ্যে প্রশাসন ও নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে পূর্বেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইভিএম ম্যাশিন সহ নির্বাচনী সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহন করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরাও ভোটারদের সমর্থন পেতে ইতোমধ্যে তাদের প্রচার প্রচারনা সম্পন্ন করেছে। প্রার্থীদের প্রতীক সম্বলিত পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌর শহরের অলি-গলি সহ ভোট কেন্দ্রগুলোর চারপাশ। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের গুণাগুন বিচার বিশ্লেষন করে ভোটাররাও মুখিয়ে আছে যোগ্যপাত্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য। এখন দেখার বিষয় সাতক্ষীরা পৌরবাসী আগামী পাঁচ বছরের জন্য কাকে পৌর পিতা হিসেবে বেছে নেয়।

সাতক্ষীরা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে সাতক্ষীরা পৌরসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৮৯ হাজার ২২৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৪৫ হাজার ৮শ’৬ জন আর পুরুষ ৪৩ হাজার ৪শ’১৮ জন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি বুথের প্রিজাইডিং অফিসারের হাতে ইভিএম ম্যাশিনসহ নির্বাচন সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটায় সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে এর উদ্বোধন করেন জেলা নির্বাচন কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ নাজমুল কবীর। সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ নাজমুল কবীর জানান, রবিবার সাতক্ষীরা পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পৌরসভার ৩৭টি ভোট কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোট পরিচালিত হবে। প্রতিটি বুথে একজন উপ-পরিদর্শকের নের্তৃত্বে চারজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া চারজন পুরুষ ও তিনজন করে পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে। পুলিশ ছাড়া তিন ব্যাটালিয়ন বিজিবি ও আনছার মোতায়েন থাকবে। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে নয়টি ওয়ার্ডকে তিনটি ভাগে ভাগ করে সার্কেল পর্যায়ের একজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করবেন।

এবারের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন মোট ৫ জন। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৭২ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শেখ নাসেরুল হক, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী তাজকিন আহমেদ চিশতি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে সাতক্ষীরা চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি নাছিম ফারুক খান মিঠু ও জামায়াত মনোনীত জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ নুরুল হুদা এবং হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ডা. এস.এম মুসতাফীজ উর রউফ প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

বিগত ২০১৫ সালের সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচন মোট ৭৯ হাজার ৬ হাজার ৩৪ জন ভোটারের মধ্যে ৫১ হাজার ৬শ ২০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সে নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের প্রার্থী (ধানের শীষ প্রতীক) তাজকিন আহমেদ চিশতি ১৬ হাজার ৪ শ’ ৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব জাতীয় পাটির (লাঙ্গল প্রতীক) প্রার্থী মো. আজহার হোসেন পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৮শ’ ৭৩ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিম ফারুক খান মিঠু ১২ হাজার ৫শ ৩২ ভোট পেয়ে ৩য় অবস্থানে ছিলেন এবং আওয়ামীলীগের (নৌকা প্রতীক) নিয়ে মো. সাহাদাৎ হোসেন ৯ হাজার ৭২ ভোট পেয়েছিলেন।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে সরকারদলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ নাসেরুল হক। তিনি সাতক্ষীরা পৌরসভার সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা এবং সাতক্ষীরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়র মরহুম শেখ আশরাফুল হকের ছেলে। তার পিতা পরপর দুইবার মেয়র নির্বাচিত হন। সাবেক মেয়র শেখ আশরাফুল হক দলমতের উর্দ্ধে উঠে পৌর এলাকার মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি প্রতিদিনই ভোর থেকে পৌর এলাকার সাধারণ জনগনের বাড়ি বাড়ি যেয়ে তাদের হাড়ির খবর নিতেন। তাছাড়া তার ছেলে শেখ নাসেরুল হক ব্যক্তিগতভাবে ক্লিন ইমেজের মানুষ। তিনি স্বশিক্ষিত এবং কোন মামলার আসামী নন। তিনি একজন ব্যবসায়ী, মেসার্স হাসিব ট্রেডিং এর স্বত্তাধিকারী।

নৌকার সমর্থকরা বলছেন, বিগত ১২ বছর দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, আবার মাঠে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের একচেটিয়া সুযোগটাও পেয়েছে সরকার দলীয় পক্ষের লোকজন। এর ফলে পৌরসভায় প্রথমবাবের মতো যারা নতুন ভোটার হয়েছে তাদের অধিকাংশের ঝোঁকটা নৌকার পক্ষেই থাকতে পরে। তারা আরো জানান, সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী এবারের ভোটের মাঠে নেই। তাই তাদের ভোটের বেশিরভাগটাই নৌকায় যেতে পারে। সবমিলিয়ে নৌকার অবস্থান এবার অনেক শক্তই বলে মনে করছেন তারা।

নির্বাচনে বিএনপি দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তাসকিন আহমেদ চিশতি। তিনি শহরের কামালনগরের আবুল কাসেমের ছেলে। তিনি শিক্ষায় এলএলবি অনার্স। তিনি বিচারাধীন দুটি মামলার আসামী। তিনিও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বিগত ২০১৫ সালে সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। ধানের শীষের সমর্থকরা বলছেন, মেয়র চিশতি মানুষের সাথে খুবই সদালপি। পৌরসভায় গেলেই তার মিষ্টিমুখের কথা কেউই ভোলেননি। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে বিগত নির্বাচনের চেয়ে এবার তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। জামায়াতের ভোট না পেলেও তিনি পূনরায় বিজয়ী হতে পারবেন বলে তার কর্মী সমর্থকরা মনে করছেন।

এবারের নির্বাচনে আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন সাতক্ষীরা চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু। তিনি শহরের দক্ষিণ পলাশপোলের আব্দুস সোবহান খান এর ছেলে। স্বশিক্ষিত এই প্রার্থীর নামেও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র প্রার্থী তাজকিন আহমেদ চিশতির থেকে ৩ হাজার ৯শ ৩৮ ভোটের ব্যবধানে ৩য় অবস্থানে ছিলেন। তবে ভোটের পর থেকে বসে ছিলেন না তিনি। এলাকায় এলাকায় গেছেন সবসময়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাহায্য সহায়তা করেছেন। যুব সমাজের মধ্যে তার নিজস্ব একটা বলয় রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেও তিনি অনেকেটাই আস্থাভাজন। ফলে তাকে কেউ ছোট করে দেখছেন না।

নারিকেল গাছ প্রতীকের সমর্থকরা বলছেন, মিঠু খান একজন সাদা মনের মানুষ। মানুষের বিপদে আপদে সবার পাশে থাকেন তিনি। বিগত নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে না পারলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়ে ছিলেন তিনি। মেয়র না হয়েও নিজ অবস্থান থেকে বিগত ৫ বছর যাবৎ পৌরবাসীর সেবা করেছেন তিনি। সাতক্ষীরা চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি হওয়ার সুবাদে আপামর জনসাধারনের সাথে একটি সুসম্পর্ক রয়েছে তার। তাই সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোটাররা নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে নারিকেল গাছ প্রতীক বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

নির্বাচনে জামায়াত সমর্থীত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জগ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে লড়ছেন সাবেক শ্রমিক নেতা নুরুল হুদা। তিনি শহরের উত্তর পলাশপোলের মো: নজিবর রহমানের ছেলে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিএসসি পাশ। তার নামীয় ৭৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যার অধিকাংশ নাশকতা, হত্যা সহ বিভিন্ন অপরাধমুলক মামলা। ব্যবসা কাঠ ক্রয় বিক্রয়। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারছে না জামায়াত। এক সময় সাতক্ষীরাতে তাদের শক্ত অবস্থান ছিল। পৌরসভা নির্বানের মাধ্যমে তারা তাদের বর্তমান অবস্থান জানান দিতে চায়।

জগ প্রতীকের সমথর্করা তাদের গণসংযোগ সহ নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় যা বলেছেন তা হলো, তাদের প্রার্থী নুরুল হুদা দীর্ঘ দিন ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে এমডির পদে ছিলেন। সকাল থেকে গভীর রাত পোর্যন্ত তিনি ভোটাদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। পৌর সভায় তাদের বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে যা কাজে লাগিয়ে বিগত নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী তাসকিন আহম্মেদ চিশতি জয় নিশ্চিত করেন। তাই এবার তাদের প্রার্থীর পক্ষেই জনসমর্থন বেশি হবে বলে মনে করছেন তারা।

নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম মুসতাফীজ উর রউফ। তিনি শহরের মুন্সিপাড়ার এ কে এম আব্দুর রউফ এর ছেলে। শিক্ষায় তিনি বিএ পাশ। তার নামে কোন ফৌজদারি মামলা নেই। চিকিৎসা পেশা সাখে সম্পৃক্ত এই প্রার্থী দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে লড়ছেন সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে। হাতপাখা প্রতীকের সমর্থকরা বলছেন, পৌরসভায় তাদেরও অনেক জনসমর্থন আছে। দিনে দিনে তাদেরও ভোটও বাড়ছে। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে তাদের প্রার্থীর বিজয়ী হওযার সম্ভাবনা আছে।

এছাড়া মেয়র পদের পাশাশপাশি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই রয়েছে একাধিক কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী। তাদের প্রত্যেকেই নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে তাদেরও যোগ্যতা অযোগ্যতা নিয়ে ইতোমধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষন করে পেলেছে ভোটাররা। প্রার্থীদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিতে চায় ভোটাররা।

জনমত বিশ্লেষনে দেখা গেছে, সদ্য সমাপ্ত সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠায় নির্বাচন কমিশন ফলাফল স্থগিত করায় সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচন নিয়েও ভোটারদের মনে কিছুটা হলেও সংশয় রয়েছে। সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তারা চিন্তিত। কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট দিতে পারবেন কি না সেটাই প্রশ্ন তাদের। অবশ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ন পরিবেশেই সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে নৌকার সমর্থকরা মনে করছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী যেহেতু মাঠে রয়েছে তাই বিএনপির ভোট কমতে পারে তাছাড়া জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী না থাকায় জোটগত সমর্থনও যেহেতু তাদের দিকেই রয়েছে তাই নৌকার পালেই বিজয়ের হাওয়া লাগতে পারে। আর ধানের শীষের সমথর্করা মনে করছেন, জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাঠে থাকলেও সদালপি ও ক্লিন ইমেজের কারনে এবং বিগত ৫ বছর মেয়র থাকার সুবাদে তাদের প্রার্থীর ভোট ব্যাংক বেড়েছে। তাছাড়া দেশব্যাপি সরকার দলীয়দের যে দখলদারিত্ব মানুষ দেখছে তাতে ধানের শীষেই আবারও আস্থা রাখবে সাতক্ষীরা পৌরবাসী। আর নারিকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা মনে করছে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী যতই ভোট কাটবে ততোই তাদের প্রার্থীর মেয়র হওয়ার পথ সহজ হবে। বিগত নির্বাচনে যেহেতু নৌকা প্রতীকের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল তাদের প্রার্থী এবং মেয়র না হয়েও পৌরবাসীর পাশে থেকে যেভাবে সেবা করেছেন তাতে একজন নিঃস্বার্থবান, মানবদরদী ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে তার জয়ের পাল্লাই ভারী। এছাড়া জগ প্রতীকের সমর্থকরা মনে করছেন বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরায় এখনো পর্যাপ্ত জনসমর্থন রয়েছে তাদের। তাই সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে তাদের প্রার্থীরও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

আর বিশ্লেষকরা বলছেন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে সাতক্ষীরা পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। এখানে নৌকা-ধানের শীষ-নারিকেল গাছ প্রতীকের মাঝে ত্রিমুখী বা নৌকা-ধানের শীষ-নারিকেল গাছ-জগ প্রতীকের মাঝে চতুর্মুখী লড়াই হতে পারে। এখন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পৌরবাসী কাকে মেয়র হিসেবে বেছে নেবে, মেয়র পদে বিজয়ের শেষ হাসি কে হাসবে তা জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আজ রবিবার বিকাল ৪টার পর ভোটের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত।