স্বাধীনতা বিরোধী চক্রান্ত রুখতে সাতনদী সাহসী ভূমিকা রেখে চলেছে

মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় এমপি রবি

0 ১৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ এর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালির বিজয় অর্জিত হয়। সেই থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে মহান বিজয় দিবস। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত থেমে নেই। যারা এদেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব ও বিজয়কে সহ্য করতে পারে না তারা অত্যন্ত কৌশলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য কাজ করে থাকে। তাই দেশ বিরোধীদের রুখতে দেশ প্রেমিক জনগন যেমন ভূমিকা রেখে চলেছে তেমনি স্বাধীনতা বিরোধী চক্রান্ত রুখতে দৈনিক সাতনদী পত্রিকাও সাহসী ভূমিকা রেখে চলেছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা ২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি উপরোক্ত কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা বাদে আমরা বিভিন্ন মতের অন্যান্য লোকজন মিলে এদেশের উন্নয়নে একসাথে কাজ করব। এক জায়গায় বসে আলোচনা করব তাতে কোন সমস্যা নেই। তিনি আরও বলেন, বিজয় দিবস আমাদেরকে ত্যাগ, সংগ্রাম ও উন্নয়নের শিক্ষা দেয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। উন্নয়নের এ ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের সবাইকে আরও সাহসী ও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে।
সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসী বহুল প্রচলিত দৈনিক সাতনদী পত্রিকার আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৪ টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক অধ্যক্ষ ও দৈনিক সাতনদী পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক পবিত্র মোহন দাশ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, জেলার নানা অন্যায়-অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৈনিক সাতনদী পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক অসাধু কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নানা অনিয়ম দুর্নিতির খবরও সাতনদী পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এতে করে ঐ সকল দূর্নীতি পরায়ন ব্যক্তিদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তাই তারা সাতনদীর বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত শুরু করেছে। সাতনদী পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের উপর বিভিন্ন সময় হামলা ও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সর্বশেষ সাতনদী পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ এনে তাকে ঘায়েল করার ও তার পত্রিকার কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু সাতনদীর কন্ঠ রোধ করা যাবে না। যে কোন অনিয়ম- দূর্নীতি ও অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সাতনদী সব সময়ই সাহসী ভূমিকা রেখেছে; আগামীতেও রাখবে।
অলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ বলেন, স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ কিন্তু এক রক্ষা করা অনেক কঠিন। তাই বিজয়ের আনন্দে আত্মহারা না হয়ে এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য আমাদেরকে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করায় দৈনিক সাতনদী কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশাংসা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন সাতনদী ন্যায় ও সত্যের কথা বলে। সাতনদীর বিরুদ্ধে কোন চক্রান্ত করা হলে আমরা সাতনদীর পাশে থাকব।
অলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম ফারুক বলেন, বিজয় দিবস আমাদের অহঙ্কার, আমাদের গর্ব। তাই স্বাধীনতা ও বিজয়কে অক্ষুন্ন রাখার জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। তিনি দৈনিক সাতনদীর উদ্দেশ্যে বলেন, সত্য কথা প্রকাশ করলে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তিদের গাত্রদাহ হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই পত্রিকার কন্ঠ রোধ করার জন্য অপচেষ্টা চালানো হবে, বাঁধা আসবে। সব বাঁধাকে উপেক্ষা করে সাহসীকতার সাথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
দৈনিক সাতনদী’র বার্তা সম্পাদকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন
সাতক্ষীরা জেলা বিএমএর সাধারন সম্পাদক ডা: মোঃ মনোয়ার হোসেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ মো. আজিজুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এর সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দৈনিক সাতনদী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এএসএম মাকসুদ খান। অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসের উপর স্বরচিত কবিতা আবৃতি করেন কবি আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী।
অন্যান্যেরে মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, কবিতা পরিষদ- সাতক্ষীরা’র সভাপতি প্রভাষক মনিরুজ্জামান (মন্ময় মনির), কুমিরা মহিলা কলেজের অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমেদ ও জেলা বাকশিস নেতা মো.আরশাদ আলী। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে দৈনিক সাতনদী পত্রিকার নগর সম্পাদক আহাদুর রহমান জনি, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, প্রধান প্রতিবেদক আইয়ুব হোসেন রানা, নিজস্ব প্রতিবেদক ফিরোজ হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক নাসির হোসেন এবং অন্যান্য সাংবাদিক, শিক্ষক, সমাজসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।